সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
কপিলমুনিতে মুক্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে র‍্যালি ও আলোচনা সভা রাজারহাট প্রেসক্লাব ও সমকাল সুহৃদ সমাবেশের উদ্যোগে পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ গাজীপুরে কৃষি জমির মাটি কাটার অভিযোগে ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড  শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে মিফতাহুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার বার্ষিক অনুষ্ঠান আসন্ন গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলোচনায় – বিএনপি নেতা রাসেল আহমেদ ভেড়ামারায় ৭০টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় খেজুর বিতরণ শ্রীপুর পৌর বাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব বিল্লাল হোসেন বেপারী পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে গ্রীন টিভির গাজীপুর প্রতিনিধি মোঃ নাসির উদ্দিনের শুভেচ্ছা ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: গ্রেপ্তার ১২ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী: প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু : প্রফেসর ড. মো: আবু তালেব 

অভয়নগরে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প নিয়ে তেলেছমাতি কারবার; বিপাকে ক্রেতারা

রিপোর্টারের নাম / ২২০ টাইম ভিউ
আপডেট : সোমবার, নভেম্বর ২৭, ২০২৩, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ

মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি

 

যশোরের অভয়নগরে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প নিয়ে তেলেছমাতি কারবার, স্টাম্প কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। নেওয়া হচ্ছে ১শ’ টাকার স্ট্যাম্পে জন্য ২শ’ টাকা। এ উপজেলায় ১শ’ টাকার স্ট্যাম্প সংকট দেখা দিয়েছে দেড় মাস ধরে । জানা গেছে, ১শ’ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প কিনতে হচ্ছে ১৫০ থেকে ২শ’ টাকা বেশি দিয়ে। কেউ আবার বাধ্য হয়ে নিচ্ছেন ৩শ’ টাকা বেশি দিয়ে। আর ৫০ টাকার স্ট্যাম্পের জন্য গুণতে হচ্ছে ৭০ টাকা। এভাবে সব ধরনের নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প কিনতে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার নওয়াপাড়া দলিল লেখক সমিতি চত্বরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কিছু অসাধু স্ট্যাম্প ভেন্ডার এমন সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এতে করে বছরে উপজেলায় সেবাগ্রহীতাদের পকেট থেকে লাখ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে এই সিন্ডিকেট। প্রকাশ্যে বছরের পর বছর এমন নৈরাজ্য চললেও এটি দেখার যেন কেউ নেই। উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও দলিল লেখক সমিতির চত্বরে ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। সেবাগ্রহীতারা জানান, দলিল নিবন্ধন, জমির দলিল, চুক্তিপত্র, নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিট, হলফনামা, বন্ধকনামার চুক্তিপত্র, মালামাল খালাস আদেশ, শুল্ক বন্ড, শেয়ার বরাদ্দ, মামলা মোকদ্দমাসহ বিভিন্ন কাজে স্ট্যাম্প ব্যবহার বাধ্যতাম‚লক। ফলে এসব ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতারা স্ট্যাম্প কিনে থাকেন।আর এই সুযোগে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে স্ট্যাম্প বিক্রি করছেন কিছু অসাধু স্ট্যাম্প ভেন্ডার।

 

অভিযোগ রয়েছে, স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের সঙ্গে এই কারসাজিতে জড়িত স্ট্যাম্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। সিদ্ধিপাশার আহাদ আলী জানান, তিনি স¤প্রতি একটি মোটরসাইকেল কিনেছেন। এটার মালিকানা লিখে নিতে তার ২শ’ টাকার স্ট্যাম্প দরকার। নওয়াপাড়া দলিল লেখক সমিতির চত্বর থেকে ১শ’ টাকার দুটি স্ট্যাম্প ৪৫০ টাকা দিয়ে কিনতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি জানান, এই বাড়তি ২৫০ টাকা তার মতো গরিব কৃষকের কাছে একবেলা ভাতের দাম। স্ট্যাম্প কিনতে আসা ফজর আলী শেখ, হান্নান রহমান, রহমত আলী বলেন, নতুন দোকান ভাড়া নিয়েছি। চুক্তিপত্র করতে ৩শ’ টাকার তিনটা স্ট্যাম্প লাগবে। দুদিন ধরে ঘুরে ঘুরে পাইনি। আজকে রবিউল ইসলাম বাবুর কাছে গেলে তিনি জানান দাম পড়বে বেশি। তিনটা স্ট্যামে ৬শ’ টাকা চাওয়া হয়েছে। স্ট্যাম্প না কিনে ফিরে এসেছি। নওয়াপাড়া এলাকার মনির শেখ জানান, নওয়াপাড়ায় না পেয়ে যশোর থেকে ৩টি স্ট্যাম্প কিনেছি ১৩০ টাকা প্রতি ৩শ’৯০ টাকা দিয়ে। নওয়াপাড়া দলিল লেখক সমিতির চত্ত¡রে ৩ টা ১শ’ টাকার স্ট্যাম্প ৬শ’ টাকা দাবি করা হয়েছিল। সুত্র জানায়, ৫০ টাকার স্ট্যাম্প ৬০ টাকা।১শ’ টাকার স্ট্যাম্প ১২০ টাকা নেওয়া হয়। ২শ’ টাকার দলিল সেট করতে খরচ পড়ে ৭শ’ টাকা। সেখানে স্ট্যান্ড ভ্যান্ডার নিয়ে থাকেন ৯শ’ থেকে ১হাজার টাকা। সেট প্রতি খরচ হওয়ার কথা ৫শ’ টাকা। নোটিশ ও কোর্ট ফি মিলে খরচ পড়ে ৫১৫ টাকা। ডাবল চালানের খরচ পড়ে বেশি। যে জমা নেওয়ার সময় টাকা গুনতে হয় এমন দাবি স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের। স্ট্যাম্প তোলার সময়ও আবার টাকা গুনতে হয় জানান তারা। এ উপজেলায় দেড় মাস ধরে চলছে এ সংকট। নওয়াপাড়া দলিল লেখক সমিতির আন্ডারে ৯ জন স্ট্যাম্প ভেন্ডার রয়েছেন। সেখানে স্ট্যাম্প তোলেন মাত্র সাতজন। স্ট্যাম্প ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বাবু বলেন, এই এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় স্ট্যাম্প সংকট দেখা দিয়েছে। যে কারণে ১শ’ টাকার স্ট্যাম্প ২শ’ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এই স্ট্যাম্প গুলো বাইরের থেকে এনে দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহে সব ঠিক হয়ে যাবে। দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, এই স্ট্যাম্প সংকট বেশ কয়েকদিন ধরে চলছে। ভেন্ডাররা বাইরে থেকে এনে বিক্রি করছেন। যে কারণে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া এ সমিতির আন্ডারে যারা বেশি দামে বিক্রি করবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। স্ট্যাম্পগুলো আনতে খরচ হয়। ওপরের কর্মকর্তারা আছেন, সেখানে কিছু খরচ হয়। সবই তো বোঝেন আপনারা।

 

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভুমি) থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, স্ট্যাম্পের দাম বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলেই খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংকট থাকলেও দাম বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি করতে হবে স্ট্যাম্প। ঊধ্বর্তন কতৃর্পক্ষ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর