মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে সার চোর সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। তথ্য সূত্রে জানা গেছে, শিল্প বানিজ্য নওয়াপাড়া সারের বড়ো মোকাম নামে পরিচিত। নওয়াপাড়া থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রান্তিক চাষিদের মাঝে কৃষি কাজে ব্যবহারিত সার পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সার ব্যবসায়ীরা নওয়াপাড়া সার মোকামের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। কিন্তু নওয়াপাড়া সার ব্যবসায়ীদের বেকায়দায় ও বিতর্কের মুখে ফেলতে একশ্রেণীর চোর সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকার ও প্রশাসনকে বোকা বানাতে সরকারি সারের চালান কাগজপত্র ভূয়া ভাবে নকল তৈরি করে বিভিন্ন ভাবে নওয়াপাড়া থেকে সার লোপাট করা হয়। সূত্রে আরো জানা গেছে, ওইসব সার লোপাট সিন্ডিকেট বড়ো বড়ো রাঘববোয়ালদের ছত্রছায়ায় থেকে সার চুরি করে লোপাট করে কোটি-কোটি টাকা বানিজ্যের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়। ফলে সবকিছু থেকে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে। যদিও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু বড়ো বড়ো সার লোপাট সিন্ডিকেট থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। তেমনই এক অভিযানের মাধ্যমে গত বুধবার (১৫ জানুয়ারী) রাতে উপজেলার চেঙ্গুটিয়া বাজার সংলগ্ন মজুমদার মিল এলাকা থেকে সার কেলেঙ্কারীর অভিযোগে চার ট্রাক ডিএপি সার থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চেঙ্গুটিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন, অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলি খাতুন। সারের ডিও ও প্রয়োজনী কাগজপত্র দেখে সন্দেহ হলে সার বোঝায় ট্রাক চারটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, নওয়াপাড়া নিজঘাট-৪ থেকে সারগুলো বোঝায় করে ঝালকাঠি যাওয়ার কথা ছিল তবে সারগুলো ঝালকাঠি না নিয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছিল। সূত্রে জানা গেছে ৪ ট্রাক সার আটকের ঘটনায় বিভিন্ন মহলের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। ৪ ট্রাক সার কর্তৃপক্ষের থেকে ছাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন মহল থেকে অর্থ বানিজ্যের মাধ্যমে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চার ট্রাক বোঝাই ১৭৬০ বস্তা ডিএপি সার পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যাচায় বাছায় চলছে, অপরাধ প্রমাণীত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দীর্ঘ দিন থেকে বিসিআইসি ডিলার ও একটি চক্র সরকারী বরাদ্দের নন ইউরিয়া সার বরাদ্দকৃত এলাকায় না নিয়ে সরকারী মূল্যের চেয়েওপ্রতি বস্তায় ৩ থেকে ৪শ’টাকা বেশি দামে বিক্রি করে আসছে।সেই সার কৃষকরা সরকারী মূল্যে কিনতে না পেরে বেশিদামে কিনে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।