বায়জিদ হোসেন, মোংলাঃ
রমজান মাস জুড়ে তীব্র দাবদাহ আর ঈদের পর কিছুটা বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় তেমন একটা পর্যটকের দেখা নেই সুন্দরবনে। রমজানে রোজা ও গরমে একরকম পর্যটক শূণ্য ছিলো সুন্দরবন। এরপর ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আনাগোনা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও মুলত ঈদের দিন শনিবার মোংলাসহ সুন্দরবন উপকূলে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থাকায় লোকজন হয়নি তেমন। বনবিভাগের আশা ছিলো ঈদের পরদিন পর্যটক বাড়বে সুন্দরবনে। কিন্তু ঈদের পরদিন রবিবার ভোর থেকে হঠাৎ আকাশ মেঘলা, হালকা বাতাস ও ফোটা ফোটা বৃষ্টির বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণেই পর্যটক আশানুরূপ হচ্ছেনা। এর আগে তীব্র দাবদাহে আসেনি পর্যটক। সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের হাড়বাড়ীয়া পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হাসান বলেন, তীব্র দাবদাহে পুরো রমজান মাসে মাত্র ৩টি পর্যটনবাহী বোট এসেছিলো হাড়বাড়ীয়। আর ঈদের দিন কোন পর্যটকই আসেনি। ঈদের পরদিন দুপুর পর্যন্ত মাত্র ১টি বোটে ৪জন পর্যটক এসেছেন। তিনি বলেন, রমজানে গরমে লোক আসেনি, আশা করেছিলাম ঈদে বেশ লোক হবে, কিন্তু তাও হয়নি। কারণ ঈদের পরদিন বিরুপ আবহাওয়া বিরাজ করায় একেবারেই পর্যটন শুণ্য হাড়বাড়ীয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রটি। সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগে রয়েছে ৮টি পর্যটন কেন্দ্র। সেগুলো হলো করমজল, হাড়বাড়ীয়া, হিরণপয়েন্ট-নীলকমল, আন্ধারমানিক, কটকা, কচিখালী, আলীবান্ধা ও দুবলা। যার মধ্যে করমজল সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে হওয়াতে এ কেন্দ্রটিতে সারা বছরই কম বেশি পর্যটকের আনাগোনা থাকে। তবে এবার তার ব্যতিক্রম ঘটছে। রমজানে দাবদাহে তেমন পর্যটক আসেনি, আর ঈদের পরদিন দাবদাহ কমলেও বৈরী আবহাওয়া পর্যটকের সাড়া নেই। করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, করমজল পর্যটন কেন্দ্রে ঈদের দিন শ’দুই লোক হয়েছে। আর পরদিন সকাল থেকে আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় লোকজনের আগমনও তেমন একটা নেই। রবিবার দুপুর পর্যন্ত সাড়ে ৩শ/৪শ লোক হয়েছে। আশা ছিলো দুপুরের আগেই পর্যটকের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে। কিন্ত খুব কম কম লোক আসছে। মুলত এর আগে প্রচন্ড গরম আর বর্তমানে মেঘ-বৃষ্টিতে পর্যটক আসছে না তেমন। কারণ মেঘ-বৃষ্টিতে নদী উত্তাল হয়ে উঠে, ফলে নদী পথে বনে আসা-যাওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। মোংলা বন্দর জালিবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ঈদের দিন শনিবার ৩০/৩৫টি ট্যুরিস্ট বোট গিয়েছিলো সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে। আর পরদিন রবিবার মাত্র ১০/১২টি বোট পিকনিক কর্ণার ও ফেরিঘাট থেকে ছেড়ে গেছে সুন্দরবনে। তিনি বলেন, হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হওয়াতে আশানুরূপ পর্যটক আসছেনা সুন্দরবনে। রমজান থেকেই ঈদ পর্যন্ত পর্যটকের আগমন খুবই কম। ধারণা ছিলো ঈদে লোক বাড়বে, কিন্তু বাস্তব চিত্র তার বিপরীত। পর্যটকের অভাবে আমরা ট্যুরিস্ট ব্যবসায়ীরা বোট, লঞ্চ ও জাহাজ নিয়ে অলস সময় পার করছি।