শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালী জেলা কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ও মন্দিরে নানা ধরনের আয়োজনের মধ্য, বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে শান্তি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, বৌদ্ধ , কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথ উদ্যোগে আজ সকালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানমালার শুরুতে একটি শান্তি শোভাযাত্রা বের করা হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণে পরে বুদ্ধ পূর্ণিমার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৌদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন, বক্তব্য রাখেন বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন প্রধান সমন্বয়ক বৌদ্ধ, অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটায় বৌদ্ধ ধর্মের মন্দির, বৌদ্ধ ধর্ম সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা, এ উপলক্ষে সাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটি পেয়ে হাজারো ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে।
গতকাল সকাল থেকেই সৈকতের প্রতিটি অংশে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ কেউ গরম উপেক্ষা করে সাগরের নোনা জলে গা ভাসিয়ে নিচ্ছেন প্রশান্তি, কেউবা উপভোগ করছেন সূর্যাস্তের অপার সৌন্দর্য। এদিন কুয়াকাটায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২. ৮ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পর্যটকদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছে সৈকতসংলগ্ন ব্যবসা। যেমন ডাব, লেবুর শরবত, নানা ধরনের ঠান্ডা পানীয় খাবার বিক্রি করে ভালো লাভ করছেন স্থানীয় বিক্রেতারা। সেই সঙ্গে জমে উঠেছে হস্তশিল্প ও কুড়ানো শামুক-ঝিনুক বিক্রির দোকানগুলোও।
পর্যটকেরা শুধু সৈকতেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না; ঘুরে দেখছেন গঙ্গামতি, লেবুরবন, কাউয়ারচর, গঙ্গামতি লেক, মিশিপাড়া বৌদ্ধবিহার ও কুয়াকাটা বৌদ্ধমন্দিরসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো।কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল কুয়াকাটায় প্রায় ২ শতাধিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ রুম ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে অনলাইনের মাধ্যমে মোটামুটি ব্যাপক বুকিং হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সাপ্তাহিক ছুটি এবং রাখাইন বৌদ্ধ সম্প্রদায় এর বুদ্ধ পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে পর্যটকের চাপ থাকায় পর্যটন পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে, যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।আজ , ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে রাখাইন বৌদ্ধ সম্প্রদায় এর বুদ্ধ পূর্ণিমা। স্থানীয়রা মনে করছেন, এ রাখাইনদের ধর্মীয় কার্যক্রমকে ঘিরে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে এবং কুয়াকাটার পর্যটন খাতে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।