মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
ঢাকা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত শ্রীপুরে যুবককে পুড়িয়ে হত্যা: রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৬ ভেড়ামারায় বিএনপির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত   জুলাই যোদ্ধা ও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালো গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন  এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অভয়নগরে সরকারি স্লাব লুটের অভিযোগ বিএনপি নেতা পিয়ার আলীর বিরুদ্ধে খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে-প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর  শ্রীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডবাসীকে মেহেদী হাসান সরকারের অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা কয়রায় সড়ক নির্মানের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে হয়রানীর অভিযোগ  ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক: শ্রীপুর পৌরবাসীর প্রতি বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন বেপারীর শুভেচ্ছা

আমন মৌসুমের পুরো সময়টায় এভাবেই ধান কুড়াচ্ছেন অভাবি মানুষেরা জলঢাকায় ইঁদুরের গর্তের ধানে চলে  গরীবের সংসার

রিপোর্টারের নাম / ১২৮ টাইম ভিউ
আপডেট : শুক্রবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৩, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান নীলফামারী প্রতবনিধি

 

কারো হাতে শাবল, কারো হাতে বাশিলা আর কারো হাতে পাসন-কোদাল। কৃষকরা আমন ধান কেটে নেওয়ার পর মাঠে মাঠে এসব দেশি অস্ত্র হাতে ইঁদুরের গর্ত খুঁজে বেড়াচ্ছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা।

 

তাদের অনুসন্ধানী চোখ শুধু ইঁদুরের কেটে নিয়ে যাওয়া ধানের নাড়ার ফাঁক দিয়ে মাটির দিকেই নয়, খালি মাঠেও। ইঁদুরের গর্ত কিংবা ঝরেপড়া ধান দেখলেই চোখে-মুখে ফুটে উঠছে হাসি।

 

মুহূর্তেই ইঁদুরের নিয়ে যাওয়া সেসব ধান গর্ত খুঁড়ে বের করে আনছেন, কুড়িয়ে নিচ্ছেন মাঠে পড়ে থাকা ধানও।

 

অভাবি ও গরিব পরিবারের এসব ধানকুড়ানিদের নেই ভিটে-মাটি, নেই জমি-জিরেত।

 

তাইতো এসব ধান বিক্রি কিংবা পিঠা-পুলি তৈরি করে সংসার চালাচ্ছেন তারা, পূরণ করছেন জীবনের শখ-আহলাদও।

 

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার সর্বত্র আমন ধান কাটার মৌসুম চলছে।

 

প্রতি মৌসুমের মতো এবারও কৃষকেরা ফসল ঘরে তোলার পর খালি মাঠে পড়ে থাকা ও ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান তুলতে দেখা যাচ্ছে অসংখ্য দরিদ্র মানুষকে।

 

রবিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গেলে ধান কুড়ানিরা জানান, কৃষকের ক্ষেত থেকে ধানের শীষ কেটে নিয়ে আপদকালীন খাদ্য হিসাবে গর্তে মজুদ রাখে ইঁদুরেরা। সেসব গর্ত খুঁড়ে ইঁদুরের খাবার বের করে নেন তারা। মাটি থেকে একটি একটি করে ধান কুড়িয়েও সঙ্গে আনা ডালায় ভরেন।

 

মৌসুমের পুরো সময়টায় এভাবেই ধান কুড়াচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন এসব অভাবি মানুষেরা।

 

সাপ, পোকা মাকড়ের কামড়ের ঝুঁকি নিয়েও ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ধান তোলে শিশু কিশোরাও।

 

কেশব চন্দ্র বলেন, ‘আমনের পুরো মৌসুমে ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ধান বের করে আনি। গত বছর এভাবে ৮ মণ ধান জমা করেছিলাম। সে ধান বিক্রির টাকা আমার সংসারের অনেক উপকারে লেগেছে’।

 

স্কুল পড়ুয়া মনু (১০) ও আজহার আলী (৮) বলে, ‘স্কুল থেকে এসে ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ও কুড়িয়ে ধান সংগ্রহ করি। এগুলো বিক্রি করে মা-বাবারা সংসারের কাজে লাগান। কখনো কখনো পিঠা তৈরি করেও খাই’।

 

তারা আরও বলে, ‘ধান কাটার সময় মালিক ক্ষেতে নামতে দেন না। কেটে নিয়ে যাওয়ার পর পড়ে থাকা ধানগুলো কুড়িয়ে থাকি। ইঁদুরের গর্ত খুঁড়েও বের করে আনি’।

 

‘গর্তে সাপ, পোকা-মাকড় থাকতে পারে, ভয় লাগে না?’- জবাবে শিশুরা বলে, ‘ভয় তো হয়ই। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ, এছাড়া উপায় কি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর