শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, নিজস্ব প্রতিবেদক
নবীজি (সাঃ) আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন উপলক্ষে আনন্দিত ও খুশি হওয়া এবং এ মর্যাদাপূর্ণ নিয়ামতের জন্য সৎকাজ ও ইবাদত বন্দেগি করার মাধ্যমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করাকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে। ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আলাইহি ওয়াসাল্লাম, উদযাপন করা বৈধ ও শরীয়ত সম্মত, এটি পালন করা উত্তম।
১২’ই রবিউল আওয়াল ঈদে মিলাদুন নবী (সাঃ) আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করা নিয়ে অনেকের মত বিরুদ্ধ হয়েছে অনেকে পালন করতে না রাজ। ঈদে মিলাদুন নবী (সাঃ) আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করা বেদাত নয়। ঈদে মিলাদুন নবী (সাঃ) আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করা জায়েজ, বলেছেন।
গাউছুল আযম বইরাবরি পাক দরবার শরীফের আহলাদে রাসুল পীরে কামেল মুর্শিদ ৪০’তম আহলাদে বায়াত হযরত আল্লামা শাহ্ সুফি সৈয়দ আশরাফুল আলম রিজভী উনার বড় শাহ্জাদা মাওলানা, মুফতি সৈয়দ তানজিম হোসাই রিজভী।
তিনি বলেন, পরম করুণাময় দয়ালু মেহেরবান মহান আল্লাহ তা’য়ালার রহমতে শোকরিয়া আদায় করা আমাদের কর্তব্য। যেমন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন
قل بفضل الله وبر حمته فبذ لك فليفر حوا هوخيرمما يجمعون…
অর্থ, হে হাবীব(ﷺ) আপনি বলুন, আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও রহমত প্রাপ্তিতে তারা যেন আনন্দ প্রকাশ করে এটা তাদের সমস্ত ধন দৌলত সঞ্চয় করা অপেক্ষা শ্রেয়। (সুরা ইউনুস আয়াত ৫৯)।
দুনিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ রহমত হলো আমাদের রাসূল (সাঃ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যেমন মহান আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন
وما ارسلناك االا رحمةاالعا لمين
অর্থঃ হে নবী (ﷺ) আপনাকে সমস্ত জগতের রহমত স্বরুপ প্রেরণ করেছি (সুরা আম্বিয়া আয়াত ১০৭)।
মুফতি সৈয়দ তানজিম হোসাই রিজভী, আরো বলেন। খোলাফায়ে রাশেদীনের মতে মিলাদুন নবী (ﷺ) হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিলাদুন নবী (সাঃ) আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য এক দিরহাম পরিমাণ খরচ করবে, সে আমার জান্নাতের সাথী হবে। হযরত ওমর (রাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি মিলাদুন নবী (সাঃ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলো, সে দ্বী ইসলামকেই জীবিত করলো। হযরত ওসমান (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিলাদুন নবী (সাঃ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করার জন্য এক দিরহাম পরিমাণ অর্থ ব্যয় করবে সে যেন বদর ও হুনায়েনের মত কঠিন জেহাদে শরীক হলো। মাওলা আলী (রাঃ) বলেন যে ব্যক্তি মিলাদুন নবী (সাঃ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে এবং মিলাদুন নবী (সাঃ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে সে দুনিয়া থেকে ইমানের সাথে বিদায় হবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে ( আন নেমাতুল কোবরা পৃষ্ঠা৭-৮)।