কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলামকে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদন্নোতি দিয়ে (শাখা প্রধান) ভূমি মন্ত্রণালয় বদলি করা হয়েছে। গত ১৫ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল হায়াত মোঃ রফিক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয় আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় স্টান্ড রিলিজ করা হবে।
এ বদলীর খবরে ইউএনও কতৃক ক্ষতিগ্রস্ত কুয়াকাটার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে। আজ মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০ টায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ, মসজিদের মুসুল্লিরা জড়ো হয়ে এ মিছিল বের করে। মিছিলটি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক সহ পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
ইউএনও রবিউল ইসলাম এর বদলীতে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে যেন খুশির বন্যা বইছে।
এর আগে ইউএনওর বদলী ও বিচারের দাবিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ, মসজিদের মুসুল্লিরা ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন, সাংবাদিক সম্মেলন সহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হারুন মৃধা জানান, ইউএনও রবিউল ইসলাম একজন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। তিনি সৌন্দর্য বর্ধনের নামে কুয়াকাটার ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের বার বার উচ্ছেদ করেছে। এতে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করেছেন তারা। তার অভিযোগ ইউএনও সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হয়েও ৫ আগস্টের পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছে। এ জন্য তার বদলীর খবর শুনে আমরা খুশি হয়েছি। আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছি।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রুমি শরীফ বলেন, ইউএনও দূর্নীতির মাধ্যমে কুয়াকাটায় তার শশুরের নামে কয়েক কোটি টাকার জমি কিনেছেন। সমুদ্র সৈকতে অবস্থিত ডিসি পার্ক সংস্কার, বীচে লাইটিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে দাবি তার। ইউএনও বদলী হলেও দূর্নীতির তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
কুয়াকাটা বাইতুল আরোজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম কারী মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্ট এর পর ইউএনও নিজেকে সাগর সৈকত জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করে। তিনি আরো জানান, মসজিদের পাশে ১০ শতাংশ জমি রয়েছে। যা মসজিদ দলিল মুলে মালিক। ওই জমি মসজিদের মার্কেট নির্মাণ করা হয়। ইউএনও রবিউল ইসলাম সরকারি জমি দাবী করে মার্কেট ভেঙে ফেলে। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ব্যক্তি উদ্যোগে সেখানে তিনি জেলা ব্রান্ডিং অফিসের নাম করে বানিজ্যিক উদ্দেশ্য স্থাপনা নির্মাণ করছেন। যেখান থেকে তিনি এ্যাডভান্সের নামে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে তিনি দাবি করেন। রবিউল ইসলাম এর বদলীর আদেশে আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাচ্ছি। এমন একজন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে এখান থেকে বদলী করায় আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কে ধন্যবাদ জানাই।