মো: নাসির উদ্দিন গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাপাসিয়ার বরুন গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাংচুর, লুটপাট ও বসতভিটা থেকে জোর পূর্বক গাছ কেটে নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ভুক্তভাগী পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়ে বিচার চেয়ে বুধবার রাতে কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভাগী পরিবারের সদস্য মো.সায়েম ভূইয়া। সায়েম ভূইয়া জানান, তার নানা সিরাজুল ইসলাম ঘরজামাই হিসেবে শশুর বাড়ি বরুন গ্রামে বসবাস করতেন। সিরাজুল ইসলাম প্রথম স্ত্রী খাতুন্নেসা পৈত্রিক সূত্র ৪০ থেকে ৪২ বিঘা জমির মালিক ছিলেন। তাদের সংসারে ২ জন ছেলে ও ৪ জন মেয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময় সিরাজুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করলে ওই সংসারে ৪ জন ছেলে ও ৮ জন মেয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। এ সময় সিরাজুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রীর সাথে চালাকি করে বেশ কিছু জমি নিজের নামে লিখে নেন। সিরাজুল ও তার দুই স্ত্রী মারা গেলে ১ম স্ত্রীর সানোয়ারা ১২ থেকে ১৩ বিঘা জমি উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা পেল এবং ৫ থেকে ৬ বিঘা জমি দখল নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু ২য় স্ত্রীর সানোয়ারা দখলীয় জমি ও বসতভিটা থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করতে একে একে পনেরোটি মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। এমনকি যখন তখন তাদের বসত ভিটা ও আশপাশের এলাকার গাছপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বহু শালিশ বৈঠক করেও কোন সমাধান পাচ্ছে না তারা। এসব জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে একাধিক মামলা চলমান থাকলেও বুধবার দুপুরে সিরাজুলের ২য় স্ত্রীর ছেলে মারুফ হাসান (৪০), মেয়ে নাদিরা আক্তার (৩০) ও তার স্বামী আবু কালাম জারপূর্বক প্রায় লাখ টাকা মূল্যর ৩৫ থেকে ৪০ টি ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলে এবং বসতবাড়ির সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ঘরবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ সময় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে গাছ কাটতে নিষেধ করেন। এ সময় তারা প্রতিপক্ষের লোকজনকে দেখে নেওয়ার এবং জীবন নাশের হুমকি দিয়ে চলেযান। এমতাবস্থায় ভুক্তভাগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ব্যাপারে কাপাসিয়া থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, এ বিষয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।