মো: নাসির উদ্দিন গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মস্থলে ফিরে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহণ করছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রোববার সকাল থেকেই শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষাসহ বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম শুরু করেন।
কালীগঞ্জের বালীগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়—সহকারী শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিচ্ছেন, আর যেসব ক্লাসের পরীক্ষা শেষ হয়েছে, সেসব খাতা মূল্যায়ন করে নম্বর প্রদান করছেন। বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই যথাযথভাবে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উপজেলার অন্যান্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। সহকারী শিক্ষকরা কর্মস্থলে যোগ দিয়ে পুরোপুরি শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
বালীগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেশমা বেগম বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চলছে। সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষা নিচ্ছেন এবং খাতা মূল্যায়ন করছেন।”
এর আগে, গত ৩ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ইনফরমেশন অফিসার আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—অবিলম্বে কাজ শুরু করে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে, অন্যথায় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ নির্দেশনার পর প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ ৪ ডিসেম্বর এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সারাদেশে ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা তালাবদ্ধ কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করে। তারা জানান, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় রোববার থেকে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে ১০ম গ্রেডে বেতন ভাতা পেলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১৩তম গ্রেডে অবস্থান করছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা গ্রেড উন্নীতকরণের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করে আসছেন।