মাহমুদুল হাসান
কুষ্টিয়ার এক অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করলেও সংখ্যার অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় ও স্বাক্ষীরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২ হাজার ট্যাপেন্ডা ডল ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দাবি করছে, উদ্ধারকৃত ট্যাবলেটের সংখ্যা মাত্র পাঁচ হাজার। এই অঙ্কের পার্থক্য স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে। অনেকে বলছেন, উদ্ধার হওয়া ট্যাবলেটের প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করা হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে “রহস্যজনক” বলে অভিহিত করেছেন এবং বিষয়টির সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সুত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সুদরবন কুরিয়ার সার্ভিসে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সেখান থেকে আটক করা হয় বুলবুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবককে। এসময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট ভর্তি একটি কাটুন। এঘটনায় একটি মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ওই মামলায় উলেখ করা হয়েছে, বুলবুলের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫ হাজার পিস ট্যাপেন্ডা ডল ট্যাবলেট। তবে স্থানীয় ও মামলার স্বাক্ষীরা বলছেন ভিন্ন কথা। আটক বুলবুলের স্ত্রী রুপা আক্তার অভিযোগ করেছেন, আমার স্বামীর কাছে ১২ হাজার পিস ট্যাবলেট ছিল। অথচ মামলায় দেখানো হয়েছে মাত্র ৫ হাজার পিস। তাহলে বাকি ৭ হাজার পিস কোথায় গেল? নিশ্চয়ই তারা মেরে দিয়েছে। বুলবুলের বন্ধু মুন্না জানান, তাকে বুলবুলের সঙ্গে তাকেও আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। থানায় গিয়ে বুলবুল মুন্নাকে জানান, তার কাছে ১২ হাজার পিস ট্যাবলেট ছিল, কিন্তু মামলায় দেখিয়েছে ৫ হাজার পিস। মুন্না অভিযোগ করেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, তুই মিলাদ টিলাদ দিছিস তো? মুন্না বলেন মিলাদ দিবো কেনো, তার উত্তরে তারা বলেন, তোকে ছেড়ে দিয়েছি এজন্য, তখন মুন্না বলেন আমি তো আসামি না, তাহলে আমাকে কেনো ছাড়বেন না। পরে মাদকের কর্মকর্তারা বলেন, তোকে ছাড়ার কারনে আমাদের উপরে সাংবাদিকদের চাপ আসছে। মামলার সাক্ষী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন কুরিয়ারের কর্মচারী খন্দকার শাহিন। তিনি বলেন, আমাকে শুধু সাক্ষী হতে বলা হয়েছিল। আমি সই করেছি, কিন্তু আমার সামনে কোনো প্যাকেট খোলা হয়নি। ভেতরে কত পিস ছিল, আমি জানি না। এই বক্তব্য স্বাভাবিকভাবে মামলার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, আমরা ৫ হাজার পিস উদ্ধার করেছি। মামলাতেও তাই দেখানো হয়েছে। এর বাইরে কোনো তথ্য সঠিক নয়। এবিষয়ে কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পারভিন আখতারকে অফিসে না পেয়ে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি কল কেটে দেন।
স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। বহুদিন ধরেই অভিযানে ধরা মালামালের প্রকৃত সংখ্যা কম দেখানো হয়। এক বুদ্ধ বাসিন্দা প্রশ্ন তুলেছেন, রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন সাধারণ মানুষ আস্থা রাখবে কিভাবে? ঘটনার পর প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বাস্তবে উদ্ধার হয়েছিল কত? আর মামলায় কম দেখানো হলো কেন? স্থানীয় জনগণ জোরালোভাবে দাবি তুলেছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করতে হবে। তাদের ভাষায় মাদক দমন হবে কিভাবে, যদি উদ্ধার হওয়া মালামালের সংখ্যাতেই এত রহস্য লুকিয়ে থাকে? পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট এখন কুষ্টিয়ায় আলোচিত ইস্যু। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে, মাদক বিরোধী অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনগণের আস্থা একসঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ