আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতালের প্রতিদিনের উৎপাদিত বর্জ্য ও জীবাণুযুক্ত ময়লা নিরাপদে ধ্বংস করার জন্য নবনির্মিত আধুনিক ‘ইনসিনারেটর’ বা বর্জ্য দহন কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালের দীর্ঘদিনের বর্জ্য অব্যবস্থাপনা দূর হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরের এক কোণে নীল রঙের একটি সুনির্দিষ্ট আধুনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর ভেতরে রয়েছে মজবুত লোহার জালি এবং উপরে ধোঁয়া নির্গমনের জন্য বসানো হয়েছে বিশেষ চিমনি। এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে হাসপাতালের তুলা, ব্যান্ডেজ ও অন্যান্য দাহ্য বর্জ্য খোলা জায়গায় না ফেলে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, “হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ পরিষ্কার রাখা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। আগে খোলা জায়গায় বা গর্তে ময়লা ফেলার কারণে সংক্রমণের একটি ঝুঁকি থাকত। এখন এই ইনসিনারেটর ব্যবহারের ফলে আমরা বৈজ্ঞানিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে পারছি। এটি হাসপাতালের ভেতর দুর্গন্ধ রোধ করবে এবং সাধারণ মানুষ ও রোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমিয়ে আনবে।”
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির দিনে ময়লা ভিজে দুর্গন্ধ ছড়াত, যা রোগী ও দর্শনার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ছাদযুক্ত এই স্থায়ী অবকাঠামোতে যেকোনো আবহাওয়ায় ময়লা পুড়িয়ে নিমিষেই ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে। উঁচু চিমনি থাকার কারণে ধোঁয়া সরাসরি নিচ দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে, যা বায়ুদূষণ রোধেও বিশেষ সহায়ক।
শ্রীপুরের স্থানীয় সচেতন মহল ও সেবাগ্রহীতারা হাসপাতালের এই আধুনিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই ধরণের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা সরকারি স্বাস্থ্য সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি করবে।