গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ মোঃ শিমুল মিয়া
নাম সাইফুল ইসলাম। কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। তবে জমা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার প্রায় দুই বিঘা জমির ফসল পাট গাছ কেটে নিয়ে গেল সন্ত্রাসী কায়দায় এক দল দুর্বৃত্তরা।তার ফরিয়াদ যেন শুনছে না কেউ আসছে না তাকে কোন সহযোগিতা করতে। এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে আজ শনিবার (৫ জুলাই)দুপুর বারোটার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার পূর্ব কূপতলার ১নং ওয়ার্ডের গড়ের-বাতা নামক একটি গ্রামে। তবে স্বজনদের দাবি দ্রুত প্রশাসনের মাধ্যমে দুর্বৃত্ত্বদের আইনের আওতায় আনা হোক।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জের চলে আসছিল সাইফুল ইসলামের সাথে গাইবান্ধার ইসলামিয়া উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোয়েব মিয়ার সাথে। এর আগেও সোয়েব মিয়ার লোকজন সাইফুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিট করে গুরুতর আহত করেন। তবে কৃষক সাইফুল ইসলাম মামলা করলে সোয়েব মিয়া ও তার লোকজন জামিনে মুক্তি পেয়ে পরপর এ নিয়ে দুইবার পাট গাছ কেটে নিয়ে যায় । আজ শনিবার বেলা বারোটার দিকে আবার প্রায় শতাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কৃষক সাইফুল ইসলামের প্রায় দুই বিঘা জমির পাট কেটে নিয়ে যায়।যার বাজার মূল্য প্রায় দুই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয় তার। এছাড়া কৃষকের বসতবাড়ির গোয়াল ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা । এই ঘটনায় কৃষক সাইফুল ইসলাম সহ তার স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের স্বজনরা।
ভুক্তভোগী কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন,সোয়েব মিয়াদের সাথে ১০ বিঘা জমি নিয়ে ঝামেলা চলছিল। ওরা আমাদের সব জমি এ পর্যন্ত এভাবেই দখল করে আসছিল।আজ আমার কষ্টের ফসলগুলো সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তারা প্রায় অধিকাংশ পাট গাছ কেটে নিয়ে গেছে।তিনি আরও বলেন, প্রশাসনকে একাধিকবার ফোন দিলেও সাড়া পান নি কোনো।পাট কেটে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ আসলেও কোন পদক্ষেপ নেয় নি ।সরকারের কাছে সন্ত্রাসীদের আমি বিচার চাই। এখনো তারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে আমাকে।
কৃষক সাইফুলের ছোট ভাই মাজেদুল বলেন, বাড়িতে আগুন লাগাতে নিষেধ করলে তারা আমাকে লোহার রড দিয়ে হাতে আঘাত করে।আমার হাতের নখ ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে।এদের আমি শাস্তি চাই।
স্থানীয় আমির মিয়া বলেন, এরকম ঘটনা ঘটেছে আমরা দেখেছি।কৃষক সাইফুল ও তার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তবে অভিযুক্ত ইসলামিয়া উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোয়েব মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মুঠোফোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, ঘটনাটি শুনেছি ৯৯৯ ভুক্তভোগিরা ফোন দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় । এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ হয় নি।তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাপশনঃ দুর্বৃত্তদের পাট গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ছবি।