বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
গোমস্তাপুরে রহনপুর পৌরসভায় আগুনে পুড়ে যাওয়া পরিবারের মাঝে সহায়তা প্রদান রংপুরে স্কুলছাত্রীকে র্ধষণ র‌্যাবরে হাতে যুবক গ্রফেতার গাজীপুর জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত গাজীপুরে ঝুট গুদামে আগুন এক ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে  গণভোটে ‘হ্যা’র পক্ষে প্রচারনায় গাজীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর বাউবিতে “কর্মক্ষেত্রে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার” বিষয়ক প্রশিক্ষণ আল-আইনে মীরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউএই উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকসভা ও দোয়া মাহফিল শ্রীপুরে ‘গণভোট-২০২৬’ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের অবহিতকরণ সভা ও উন্মুক্ত আলোচনা ভেড়ামারায় দখলমুক্ত হচ্ছে না ফুটপাত, দুর্ভোগে পথচারীরা পাইকগাছায় ঋন পরিশোধ হলেও আমানতের চেক ফেরত না দিয়ে প্রতারনা: অতঃপর লিগ্যাল নোটিশ 

গাকৃবিতে উচ্চ লবণ সহিষ্ণু গমের নতুন জাত ‘জিএইউ গম ১’ উদ্ভাবন পুষ্টি ও উচ্চফলনে এক অভাবনীয় সংযোজন

মোঃনাসির উদ্দিন গাজীপুর প্রতিনিধি / ১০৬ টাইম ভিউ
আপডেট : বুধবার, জুলাই ২, ২০২৫, ১:৪০ অপরাহ্ণ

মোঃনাসির উদ্দিন গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

 

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) ঐতিহ্যবাহী কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রখ্যাত দু’জন কৃষি বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং প্রফেসর ড. মোঃ মসিউল ইসলাম এর নেতৃত্বে সফল গবেষণার মাধ্যমে সম্প্রতি উদ্ভাবিত হয়েছে একটি নতুন গমের জাত ‘জিএইউ গম ১’। উচ্চ লবণাক্ততা (১২ ডিএম/এস) সহনশীলতার দিক থেকে দেশে এটিই প্রথম উদ্ভাবন যা ব্যতিক্রমী সংযোজন হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য অধিক কার্যকরী প্রিমিয়াম কোয়ালিটির এই নতুন জাতটি লবণাক্ততা সহনশীল, উচ্চফলনশীল ও অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ। অপার সম্ভাবনাময় এ জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে গাকৃবির মোট উদ্ভাবিত জাতের সংখ্যা ৯১টি তে পৌঁছালো যা বাংলাদেশের কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলো। গাকৃবির গবেষণা মাঠে দীর্ঘদিন গবেষণা ও ফলন পরীক্ষার পর ২০২১ থেকে ২০২৩ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কৃষকের মাঠে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে লবণাক্ততা সহিষ্ণু ও উচ্চ ফলনশীল হিসেবে প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে দেশের ৬টি স্থানে মাঠ মূল্যায়নে প্রস্তাবিত ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফলের সুপারিশের প্রেক্ষিতে জাতীয় বীজ বোর্ড গত ১৭জুন ২০২৫ তারিখে এ জিএইউ গম ১ এর ছাড়পত্র দেয়। এ গমে বিদ্যমান অধিক প্রোটিন শরীর গঠন ও মেরামত, শক্তি সরবরাহ, ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে রোগ প্রতিরোধে অধিক সহায়তা করে থাকে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্লটেনিন থাকায় এটি উচ্চ প্রোটিন ও লো ফ্যাট হওয়ায় সহজে শরীরে শোষিত হতে পারে। ডিইউএস এর ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসম্বলিত ল্যাব টেস্টে প্রমাণিত হয় যে এটি সাধারণ গম থেকে ভিন্ন গুণসম্পন্ন। জিএইউ গম ১ এর দানা তামাটে, চকচকে এবং তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে পরিপক্ব হয়। আমন মৌসুমে ধান কাটার পর বীজ বপন করলে ৯৫ থেকে ১০০ দিনে উৎপাদন পাওয়া যায়, ফলে অল্প সময়ে অধিক ফলন পেয়ে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন। অন্যদিকে এ গমের গাছের আকার বড়, কান্ড মোটা ও গুটির সংখ্যা বেশি হওয়ায় এটি থেকে অধিক পরিমাণ খড় পাওয়া যায়, ফলে গবাদি পশুর খাদ্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উৎকৃষ্টমানের এ জাতের ফলন হেক্টর প্রতি স্বাভাবিক মাটিতে ৪.৫ টন এবং লবণাক্ত মাটিতে ৩.৭৫ টন ফলন পাওয়া সম্ভব যা একে অন্যান্য জাতের গম থেকে বিশেষ স্থানে নিয়ে গিয়েছে। উন্নত এ ইনব্রেড জাতটি বিভিন্ন রোগ যেমন ব্লাস্ট, রস্ট ইত্যাদির রোগ প্রতিরোধক সম্পন্ন হবার কারণে সাধারণ জাতের তুলনায় এটি গড়ে ১০-১৫% বেশি ফলন দিতে সক্ষম যা বাংলাদেশের মতো কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে এর উপযোগিতা অনেক। আবার এটি লবণ সহনশীল হওয়ায় মানব শরীরে সোডিয়াম ক্লোরাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কার্যকরভাবে পানি ও পুষ্টি শোষণ করতে পারে। এছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা ও রোগ-পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকায় এটি দেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশে চাষের জন্য উপযোগী ও লাভজনক একটি জাত। সার্বিক বিষয়ে এ জাতের অন্যতম উদ্ভাবক প্রফেসর ড. মোঃ মসিউল ইসলাম বলেন, “জিএইউ গম ১’ উদ্ভাবন আমাদের দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ফল। দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও লবণাক্ত এলাকায় ফসল উৎপাদনের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যেই আমরা এই গমের জাতটি উদ্ভাবনে কাজ শুরু করি। এই জাতটি লবণাক্ত পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে এবং তুলনামূলকভাবে অধিক ফলন দেয় যা কৃষকের জন্য যেমন লাভজনক, তেমনি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ড. মসিউল আরো বলেন, “আমরা আশা করি, ‘জিএইউ গম ১’ দ্রুত মাঠ পর্যায়ে বিস্তার লাভ করবে এবং দেশের বিভিন্ন লবণাক্ত অঞ্চলে গম চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আমরা এ অর্জনকে কৃষকের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেখছি।” অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অসামান্য অর্জনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নতুন জিএইউ গমের এ জাতের উদ্ভাবন এটি শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য একটি বড় অর্জন। আমাদের দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও লবণাক্ত মাটিযুক্ত এলাকায় কৃষি উৎপাদন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে থাকে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের গবেষকদ্বয় নিরলস পরিশ্রম করে এমন একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন, যা লবণাক্ত পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে এবং অধিক ফলন দিতে সক্ষম।” নতুন এ জাতটিকে দেশের টেকসই কৃষির প্রতীক উল্লেখ করে উপাচার্য আরো বলেন, “এর মাধ্যমে কৃষকেরা আগের চেয়ে অধিক লাভবান হবেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে আমরা আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।” এ সময় তিনি এই উদ্ভাবনের পেছনে শ্রম দেয়া গবেষণা দল, ল্যাব এবং মাঠপর্যায়ের বিজ্ঞানীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর