নজমুল হক, গাজীপুরঃ
কৃষিতে পানির অপচয় রোধ করে অধিক ফলনের জন্য গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) “স্মার্ট অল্টারনেট ওয়েটিং এন্ড ড্রাইং (এডব্লিউডি) শিরোনামে কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল বিভাগের আয়োজনে এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অর্থায়নে এ প্রশিক্ষণটি মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গণ কার্যক্রম এর সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন গাজীপুরের টোক ও কাউলতিয়া থেকে আসা ৫০ জন কৃষক। এ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হলো ধানচাষে পানির সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে কৃষি জমি সবসময় পানিতে ডুবিয়ে না রেখে কিছু দিনের জন্য শুকিয়ে আবার প্রয়োজনভেদে পানি দেয়া। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। প্রশিক্ষণে মুখ্য আলোচক ছিলেন, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মোস্তাফিজার রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (বহিরাঙ্গণ কার্যক্রম) প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন। দিনব্যাপী এ কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল আলোচক ড. মোস্তাফিজার এডব্লিউডি এর সনাতনী ও স্মার্ট সেচ পদ্ধতি নিয়ে চিত্রসহ আলোচনা উপস্থাপন করেন। যেখানে স্পিকার স্মার্ট পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে পানি সাশ্রয়, ফলনের ক্ষতি না হওয়া, সেচের খরচ কমা, গ্রীন হাউজ গ্যাসের মাত্রা কমা, শিকড়ের বায়ুশ্বাস বৃদ্ধি করে মাটি স্বাস্থ্যকর রাখাসহ নানাবিধ উপকারিতার দিক তুলে ধরেন। এ স্মার্ট পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে মাটির আদ্রতা, পানির স্তর মাপা, আইওটি (ইন্টারনেট অব থ্রিংস), মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান, তাপমাত্রা জানা সম্ভব বলে স্পিকার আলোচনায় উল্লেখ করেন। পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। উপাচার্য বলেন, আজকের এই প্রশিক্ষণের বিষয় “স্মার্ট সেচ পদ্ধতি” সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের কৃষি আজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানির ব্লাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ইত্যাদি আমাদের কৃষিকে টেকসইভাবে চালিয়ে নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রযুক্তি-নির্ভর দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। উপাচার্য আরো বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। আমরা চাই প্রযুক্তি শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠে পর্যায়ে প্রয়োগ হোক। প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তবিক অভিজ্ঞতা অর্জনে কৃষকদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেন প্রশিক্ষক প্রফেসর ড. মোস্তাফিজার রহমান।