নজমুল হক, স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিমপুর বারেন্ডা এলাকায় দুলাভাই গলা কেটে হত্যা করে শ্যালক জামান মিয়াকে ।গলাকেটে হত্যার দুই দিনের মাথায় রাজমিস্ত্রী জামান মিয়া (৪৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে গাজীপুর পিবিআই পুলিশ। একইসাথে এ হত্যায় জড়িত নিহত জামানের ভগ্নিপতি জালালকে (৫৩) গ্রেফতার করে পিবিআই পুলিশ গাজীপুর।
গ্রেফতার জালাল জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানান, ওয়ারিশি সম্পত্তি দিতে অস্বীকার করায় শ্যালক জামানকে তিনি গত বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে গলাকেটে হত্যা করেন।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানায় গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন – পিবিআই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সনজিৎ বিশ্বাস জানান, আসামি জালাল চারটি এনজিও থেকে নেয়া পাঁচ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধের চাপে ছিলেন। এই ঋণ পরিশোধের জন্য স্ত্রীর বাবার ওয়ারিশের সম্পতির দিকে তার নজর পড়ে। শ্যালক জামানকে তিনি স্ত্রীর সম্পত্তির ভাগ দিতে চাপ দেন। কিন্তু জামান বোনকে সম্পত্তি দিতে অস্বীকার করেন। এতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বটি দা দিয়ে পেছন দিক থেকে টান দিয়ে জামানের গলা কেটে ফেলেন। এতে ঘটনাস্থলেই জামান মারা গেলে জালাল পালিয়ে যান।গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) কাশিমপুর থানায় নিহত জাপানের স্ত্রী মামলা করেন। মামলাটি পিবিআই তফসিলভুক্ত হওয়ায় এক আবেদনের প্রেক্ষিতে অত্র মামলাটি পিবিআই গাজীপুর জেলা অধিগ্রহণ করেন।গাজীপুর পিবিআই পুলিশ সুপার মো: আবুল কালাম আজাদের দিক নির্দেশনায় মামলাটি উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নি:), সনজিৎ বিশ্বাস তদন্ত করেন।
এ বিষয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মরহুম জামান মিয়া আসামির শ্যালক। জামান মিয়া রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আসামি জালালের শ্বশুরের সম্পত্তি নিয়ে মৃত জামান মিয়ার সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। আসামি জালাল কিস্তির টাকার জন্য তার শ্যালক জামানের কাছে তার স্ত্রীর সম্পত্তির ভাগের টাকা চাইলে মৃত জামান টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে গ্রেফতার আসামি জালাল রাগের মাথায় ঘরে থাকা বটি দিয়ে জামান মিয়ার গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। আসামি জামান মিয়াকে নৃশংস হত্যার দায় স্বীকার করে জালাল নিজেকে জড়িয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌ: কা: বি: ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান।