শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত রাস রিসোর্ট-এ এক মডেল-অভিনেত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের অভিযান ও কয়েকটি ভিন্ন মামলা মিলিয়ে মোট ৪০ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী নারীর বক্তব্যে বারবার গড়মিল দেখা দেওয়ায় ঘটনাটির নেপথ্যে ‘আইফোন প্রসঙ্গ’ আলোচিত হচ্ছে।
ধর্ষণের অভিযোগ ও বিতর্কিত বক্তব্য
ভুক্তভোগী নারী জানান, নাট্যনির্মাতা নাসির উদ্দিনের সঙ্গে তিনি শনিবার ভোররাতে ঢাকা থেকে রিসোর্টে পৌঁছান। সেখানে কাপড় পরিবর্তনের পর নাসির, বাবর এবং অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি একে একে তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন সকালে তাকে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে তিনি শ্রীপুর থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ একটি ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করে।
তবে পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য স্থানীয়ভাবে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। একটি বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, “আমার সঙ্গে যা করেছে, তাতে কষ্ট নেই। বেশি কষ্ট হয়েছে আমার আইফোন নিয়ে গেছে বলে।” তিনি দুজন সাংবাদিককে ভিন্নভাবে ৬০ ও ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথাও বলেছেন। শ্রীপুর থানার একজন এসআই জানান, থানায় এসে ওই নারী মূলত গণধর্ষণের ঘটনার চেয়ে আইফোন হারানোর অভিযোগ নিয়েই বেশি কথা বলেন।
সামাজিক মাধ্যমে এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে – রাত ৩টার দিকে কেন তিনি ঢাকা থেকে ওই রিসোর্টে গেলেন? অনেকে আসল ঘটনাকে ‘লেনদেনের বনিবনা না হওয়া’ বলেও মনে করছেন।
রিসোর্টে অভিযান ও ৪০ জন আটক
ধর্ষণের অভিযোগের পাশাপাশি ওইদিনই শ্রীপুর উপজেলার উত্তর পেলাইদ গ্রামের রাস রিসোর্ট-এ অভিযান চালায় পুলিশ ও প্রশাসন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান:
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নিবন্ধন না থাকায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪ এর আওতায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, এই অভিযানে কাউকে আটক করা হয়নি।
পুলিশের অভিযান:
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল বারিক জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুই নারী ও রিসোর্টের স্টাফসহ মোট ১৮ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ২ নারীসহ মোট চারজনকে মানবপাচার মামলায় এবং বাকি ১৪ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিভিন্ন মামলায় মোট ৪০ জনকে আদালতে প্রেরণ।
রোববার সকালে ওই ১৮ জনসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ৪০ জনকে আদালতে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন:
১৮ জন: রাস রিসোর্টের ঘটনায় আটক।১১ জন: সাফারি পার্কে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক।
রাজনৈতিক মামলায়: গাজীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজ মঞ্জু মেম্বারসহ অন্য অভিযুক্তরা।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল বারিক বলেন, আইন অনুযায়ী অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং তদন্ত-প্রমাণ সাপেক্ষে আদালতে বিচার হবে।