মাহমুদুল হাসান
সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বয়স ৬০-৬৫ হবে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। সকাল বা বিকেলের দিকে কাজ না থাকলে চলে যান চায়ের দোকানে। চা খেতে খেতে দোকানে থাকা টিভিতে কোনো বাংলা সিনেমা বা ফোক গান শুনে কয়েক ঘণ্টা অবসর কাটান তিনি।
সিরাজুল ইসলামের মতো গ্রামাঞ্চলের মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম চায়ের দোকানের টিভি। অবসরে চা খেতে খেতে দোকানে থাকা টিভিতে বাংলা সিনেমা বা ফোক গান শুনেন তারা।
ভেড়ামারা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের কম বেশি হাট বাজার রয়েছে। এসব হাট বাজারের চায়ের দোকানগুলোতে রয়েছে রঙিন টেলিভিশন। এসব চায়ের দোকানগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা তাদের প্রতিদিনের অবসর সময়ে টিভিতে নানা রকম বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখেন।
তবে বাজারে চায়ের দোকানে যার স্মার্ট টিভি রয়েছে সেই দোকানে লোকজন ভিড় করে বেশি, বেচাকেনাও বেশি।
আলি হাসান বলেন, গ্রামের চায়ের দোকানে গ্রামের ছোট বড় সবাই একসাথে টিভি দেখার মধ্যে যে আনন্দ বা বিনোদন পাওয়া যায় তা বাড়িতে নেই। চায়ের দোকানে সিনেমা চললে তো মনে হয় যেন সিনেমা হলের শো চলতেছে।
আব্দুস কুদ্দুস বলেন বলেন, দুই যুগ আগে সারাদিন কাজ শেষে রাত জেগে মাতবরের বাড়িতে গান বাজনা, উঠান নাটক, ঘেটুযাত্রা দেখতে যেতাম। এখন আর আগের মতো এগুলো নাই। টিভিতে এগুলো দলবেঁধে না দেখলে ভালো লাগে না। তাই বাড়িতে টিভি থাকলেও গ্রামের সবার সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে চায়ের দোকানে আসি।
চায়ের দোকানদার সাইফুল বলেন, প্রতিদিন সকালে থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখি চা বিক্রি বাড়াতে দোকানে স্মার্ট টিভি বসিয়েছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিন থেকে চারটা বাংলা সিনেমা, সিনেমা শেষে মাঝে মাঝে ফোক, মারফতি গান ও যাত্রাপালার ভিডিগুলো টিভিতে দেখাই। এতে করে দোকানে লোকজনের ভিড় বাড়ে, বেচাকেনাও বাড়ে।
তবে গ্রামের মানুষের দলবেঁধে বিনোদন উপভোগের সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে। তাই দলবেঁধে এরা চায়ের দোকানগুলোতে টিভিতে এসব অনুষ্ঠান দেখে থাকে। চায়ের দোকানের টিভিতেই এখন তাদের বিনোদন।