মোঃ নাজমুল হাসান নাজির :
গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে জ্বালানি তেল তৈরি করা হচ্ছে ঢাকাকে ঘিরে থাকা প্রায় অর্ধশতাধিক কারখানায়। ফলে নগরীর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে কার্বন মনো অক্সাইড, নাইট্রোজেন ও মিথেনসহ ১৬ ধরণের ক্ষতিকর রাসায়নিক গ্যাস। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, ২১টি কারখানা বাদে বাকিসব অবৈধ। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টায়ারের মতো বিষাক্ত বস্তু রিসাইক্লিং করার অনুমতি দেয়ার আগে যথেষ্ট গবেষনার প্রয়োজন ছিলো যা হয়নি।
কারখানার চারপাশ কার্বনের রংয়ে ঢাকা। স ভাগুতা ও আলম নগর অবস্থিত ১১টি পাইরোলাইসিস রিসাইক্লিং কারখানা। যেখানে পরিত্যাক্ত টায়ার পুড়িয়ে তৈরি হয় ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি তেল। কম্প্রেসারে প্রায় ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলিয়ে প্রতি ১০ টন টায়ার থেকে বের হয় ৬ টন তেল, ২টন কার্বন এবং বাকিটা লোহার কাঁচামাল। মাটির উবর্তার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর পরিত্যাক্ত টায়ার। তাই রিসাইক্লিংয়ের করাটা আপাতত দৃষ্টিতে শুভ কাজ বটে। কিন্তু বায়ু দূষণের প্রশ্নে তা কতটুকু পরিবেশ সম্মত? বাংলাদেশে এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা না থাকলেও থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিডা-এর এক গবেষণা বলছে, টায়ার পাইরোলাইসিস কারখানা ১৬ ধরণের বায়বীয় রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে।

যার মধ্যে মিথেন ৩৩.২ শতাংশ, হাইড্রোজেন ১৫.৬, নাইট্রোজেন ১২.২ এবং কার্বন মনোঅক্সাইড ৪ শতাংশ। যা বাতাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে ক্যান্সারসহ, শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত নানা জটিল রোগ সৃষ্টি করছে।পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, অবৈধ কারখানাগুলি বন্ধ করা হচ্ছে।আলম নগর ও ভাগুতায় গড়ে উঠেছে ১১টি পাইরোলাইসিস কারখানা। যাদের কাছে নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তা স্বীকার করেন একটি কারখানার পাশে লোক। কারখানাগুলো চোখ ফাঁকি দিতে দিনের বেলা আগুন জ্বালায় না। অন্ধকারে ধোঁয়ার তীব্রতা পুরোটা ধরা না পড়লেও অনেকটাই স্পষ্ট হলো পাশবর্তী বিদ্যুত অফিসের আলোয়।পাইরোলাইসিস রিসাইক্লিং অয়েল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন প্রোমা-এর তথ্যমতে, সারাদেশে এমন প্ল্যান্ট আছে ৫০টি। সাভার, কেরানীগঞ্জসহ ঢাকাতেই ৩০টি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের বলছে, ছাড়পত্র আছে মাত্র ২১টি কারখানার।

পাইরোলাইসিস রিসাইক্লিং অয়েল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক শেখ আতিয়ার রহমান দিপু বলেন, ১০/১৫ টি ছোট ছোট কারখানা বাদে বেশিরভাগ কারখানা স্থাপন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে।ফিলিপিন, ইন্দোনেশিয়া ও চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশে টায়ার রিসাইক্লিং করা হয় উন্নত প্রযুক্তিতে। তবে পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার না করায় সম্প্রতি ২৭০টি কারখানার বন্ধ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ কন্ট্রোল বোর্ড।এই খাতের ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিমাসে প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিকটন পরিত্যাক্ত টায়ার রিসাইক্লিং করে যোগান দেয়া হচ্ছে ২৫ লাখ লিটার জ্বালানী তেল। তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, দূষণ নিরোধক প্রযুক্তি নিশ্চিত করেই চালু রাখার কথা ভাবত হবে এই খাত।