মোঃ নাসির উদ্দিন গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,“জীবন দেবো, কিন্তু মায়ের সম্মান নিয়ে কাউকে টানাটানি করতে দেবো না। যারা মায়ের গায়ে হাত তোলে, মায়ের সন্তানেরা তাদের ক্ষমা করবে না।”
মায়ের সম্মান, শ্রমিকের অধিকার, নারীর মর্যাদা ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো সাময়িক দাবি বা বেকার ভাতার জন্য নয়; এটি ছিল ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক কর্মসংস্থানের দাবিতে একটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলন। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-যুবক ও মায়েরা বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আ স ম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যয়নুল আবেদীন, ঢাকা উত্তর জামায়াতের অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমীর ড. জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর নায়েবে আমীর মো. হোসেন আলী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি আনিসুর রহমান বিশ্বাস, আজহারুল ইসলাম মোল্লাসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যসেবায় চরম ঘাটতি রয়েছে। ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে গাজীপুরকে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে তিনি নারী শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্যের অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, একই কাজের জন্য কম মজুরি—এই অন্যায় আর চলবে না।
নারীর মর্যাদা ও মাতৃত্ব সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, সন্তান গর্ভে আসার পর থেকে জন্ম ও লালন-পালনের জন্য দুই থেকে আড়াই বছর পর্যন্ত নারীদের দৈনিক কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে। বাকি সময় সন্তান পরিচর্যার জন্য বরাদ্দ থাকবে এবং সেই সময়ের বেতন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গাজীপুর জিডিপিতে বিশাল অবদান রাখলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অবহেলিত। কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। ইনসাফ মানে সবাইকে এক করে দেওয়া নয়, বরং যার যত অবদান তাকে ততটাই ন্যায্য মূল্য দেওয়া।
রাজনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, একজন শ্রমিকের সন্তানও মেধাবী হলে রাষ্ট্র তার দায়িত্ব নেবে। সেই সন্তান থেকেই একদিন প্রধানমন্ত্রী উঠে আসুক—এটাই তাদের স্বপ্ন।
জনসভায় তিনি গাজীপুর-১ আসনে শাহ আলম বখশী, গাজীপুর-২ আসনে অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান, গাজীপুর-৩ আসনে মাওলানা এহসানুল হক, গাজীপুর-৪ আসনে সালাহউদ্দিন আইউবী, গাজীপুর-৫ আসনে মো. খায়রুল হাসান এবং নরসিংদী-২ আসনে সারোয়ার তুষারকে জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠ পরিণত হয় গণমানুষের ইনসাফের মঞ্চে। জনতার কণ্ঠে ছিল একটাই প্রত্যাশা—অবাধ ভোট, নিরাপদ সমাজ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ।