মোঃ নাসির উদ্দিন গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গী ইজতেমা ময়দান শুক্রবার সকাল থেকেই জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ময়দানে পৌঁছাতে শুরু করেন। দেখে মনে হয়েছে—এ যেন শুধু প্রস্তুতিমূলক জোড় নয়, বরং তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমারই আগাম আবহ।
আল্লাহর পথে দাওয়াত, তালীম, আত্মশুদ্ধি ও দাওয়াতি কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত পাঁচ দিনের এ জোড় ইজতেমা ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রায় দুই লাখ পুরানা সাথীসহ সময় লাগানো ওলামায়ে কেরাম ইজতেমা মাঠে এসে পৌঁছেছেন। তার ভাষায়, “তাবলীগের মূল সৌন্দর্য বড় আয়োজন নয়; ইখলাস, খেদমত, নিঃস্বার্থ নিয়ত ও ত্যাগই এই দাওয়াতি কাজের প্রাণ।”
জোড়ে অংশ নিচ্ছেন মূলত তিন চিল্লা সম্পন্ন সাথীরা এবং অন্তত এক চিল্লা সময় লাগানো ওলামায়ে কেরাম। যদিও এটি পুরানা সাথীদের জমায়েত, তবুও নতুন-পুরনো সবাই নিজেদের আত্মগঠনের সুযোগ পাচ্ছেন।
জোড় ইজতেমার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো—গত এক বছরে দাওয়াতি ময়দানে কার কী মেহনত হয়েছে, তা মুরব্বিদের সামনে পেশ করা। মুরব্বিরা এসব কারগুজারি শোনার পর আগামী বছরের দাওয়াতি কাজের রূপরেখা ঠিক করে দেন। এ নিয়ে ইজতেমার প্রতিটি খিত্তায় চলছে দাওয়াত, তালীম, নসিহত ও বয়ান।
এবারের জোড় ইজতেমায় ১৯টি দেশ থেকে ৭০০ জন আন্তর্জাতিক মেহমান অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে— পাকিস্তান, ভারত, কিরগিস্তান, কানাডা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ইয়েমেন, চীন, সৌদি আরব, তিউনিসিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নাইজার, আফগানিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়া।বিদেশি মেহমানদের জন্য তালীম, নিরাপত্তা, আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাবিবুল্লাহ রায়হান।
শনিবারও প্রতিটি খিত্তায় চলছে তালীম ও বয়ান। পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে নগদ চিল্লার জামাত, যারা ইজতেমা শেষে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকায় দাওয়াতি সফরে বের হবেন।আগামী ২ ডিসেম্বর আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের এ জোড় ইজতেমার সমাপ্তি হবে। আত্মশুদ্ধি, দায়িত্ববোধ ও বিশ্বব্যাপী দ্বীনের দাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদে ইজতেমা ময়দান এখন পরিণত হয়েছে এক বৃহৎ আধ্যাত্মিক মিলনমেলায়।
এদিকে জোড় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। ওজু-গোসল ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।