আশিকুর রহমান সবুজ
গাজীপুরের টঙ্গীর বড় দেওড়া এলাকায় একটি বালিকা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বড় দেওড়া এলাকার ‘তা’লীমুস সুন্নাহ বালিকা মাদ্রাসা’য় এই ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম মোছাঃ সোহানা আক্তার (১১)। সে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার বাসিন্দা মোঃ মানিক মিয়ার মেয়ে। সোহানা পরিবারের সাথে চেরাগআলী কাঁঠালদিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে মাদ্রাসায় পাঠদান চলাকালীন সহকারী শিক্ষিকা জাকারিয়া তুচ্ছ ঘটনায় সোহানাকে চড়-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে সোহানার পরিবার টঙ্গী থানায় এই নিষ্ঠুর নির্যাতনের বিচার চেয়ে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তালিমুল সুন্নাহ বালিকা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ মরিয়ম আক্তার ঘটনার আংশিক দায় স্বীকার করে বলেন, “পড়া না পারার কারণে সহকারী শিক্ষিকা তাকে শাসন করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অসাবধানতাবশত মেয়েটির ঠোঁটে আঘাত লেগে রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে”।
তবে বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান জানিয়েছেন মাদ্রাসার সভাপতি আবুল হাসেম। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি জেনেছি। শিশুদের ওপর এরকম নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকলে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
এ বিষয়ে টঙ্গী থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, সরকারিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন নিষিদ্ধ থাকলেও টঙ্গীর এই মাদ্রাসাটিতে এমন অমানবিক ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।