মোঃ নাসির উদ্দিন গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
টঙ্গীতে প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও মামলার অভিযোগ উঠেছে। এরই জের ধরে হাসপাতালে ভর্তি এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলার মামলা দায়েরের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত টঙ্গী–কালিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতলী এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুল্লা, সহ যুব বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ভান্ডারী, ভুক্তভোগী আব্বাস আলীর স্ত্রী নাসিমা বেগম, তার মেয়ে আলেয়া ও আসমা, শাকিব আলী, আশরাফুল হক জুয়েল, মনির হোসেন, শহিদসহ এলাকার সাধারণ মানুষ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর আদালত এলাকায় প্রতিপক্ষ আইয়ুব আলী ও তার সহযোগীরা একই এলাকার আব্বাস আলী (৭৫), তার ছেলে রাকীব আলী (২৭) ও স্ত্রী নাসিমা বেগমকে (৫৫) মারধর করে। এতে তারা আহত হয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আব্বাস আলীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বক্তাদের দাবি, ওই দিন বিকেলে রাকীব আলী গাজীপুর থেকে টঙ্গী যাওয়ার পথে আবারও প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তাকেও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আব্বাস আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে আইয়ুব আলী গাজীপুর সদর মেট্রো থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আইয়ুব আলীর গাড়ি আটকে ভাঙচুর ও তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার অভিযোগ আনা হয়। এর আগে শুক্রবার একই ঘটনায় আইয়ুব আলী পক্ষ থেকেও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে একই দিনে আদালত এলাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত দুই দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের চারজন আহত হন। হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ এনে থানায় ও মারামারির অভিযোগ এনে আদালতে পাল্টাপাল্টি আবেদন করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে উভয় পক্ষই পৃথকভাবে মানববন্ধন করেছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থল গাজীপুর সদর মেট্রো থানার আওতাধীন। ভুক্তভোগীদের বসবাস টঙ্গীতে। এ বিষয়ে সদর থানা বিস্তারিত জানাতে পারবে।
গাজীপুর মেট্রো সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “গুলির ঘটনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অপর পক্ষও অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”