এম এ সালাম রুবেল ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঈদকে সামনে রেখে ব্যবস্ততা বাড়ছে ঠাকুরগাঁওয়ের মুখরোচক খাবার উৎপাদনকারি সেমাই কারখানাগুলোতে। এ সুযোগে কিছু অসাধু কারখানা মালিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা তো দুরের কথা যত্রতত্রভাবে উৎপাদন করছে সেমাই। এতে স্বাস্থ্যগত ক্ষতির মুখে ভোক্তারা। তবে প্রশাসন বলছে অভিযান চলমান রয়েছে প্রয়োজনে সিলগলা করা হবে কারখানা।
দিন যত যাচ্ছে ততই বাড়ছে কারখানায় সেমাই উৎপাদন। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে মুখরোচক খাবার লাচ্ছা কিংবা সাদা সেমাই। একদিকে নোংরা পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই তৈরি করে প্যাকেটজাত করছে। অন্যদিকে সাদা সেমাই উৎপাদনের পর শুকানোর জন্য ফেলে রাখা রাখছে খোলা আকাশের নিচে।
সেখানে ধুলাবালির পাশাপাশি সেমাইয়ের ওপর ছুটোছুটি করছে পোকামাকড়। এমন চিত্র মিলেছে জেলা সদরের রহিমানপুর ইউনিয়নে অবস্থিত আদুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ নামে কারখানায়। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদুরী ফুডকে গেল (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) তারিখে অভিযান পরিচালনা করে সত্যতার ভিত্তিতে একলাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তারপরেও আগের মতই করা হচ্ছে উৎপাদন। এতে প্যাকেটজাতকৃত সেমাই খেয়ে মারত্বক ক্ষতির শিকার হচ্ছে মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি জরিমানা করার পরেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অর্থেও লোভে সেমাই উৎপাদন করছে কর্তৃপক্ষ। মানুষের ক্ষতি হয় এমন কিছু উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলে কারখানা সিলগালার দাবি করেন।
তারা আরো বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে জেলার প্রতিটি কারখানায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন। কারন নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত এই খাবার পাঠানো হচ্ছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এমনকি কারিগরদের মধ্যেও নেই কোনো স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী। প্রকাশ্যে এমন কার্যক্রম চললেও প্রর্যাপ্ত নজরদারি অভাবের কারনে তারা সাহস পাচ্ছে।
নোংরা পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই উৎপাদনের বিষয়ে আদুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজার ওসমান আলী পলাশ স্বীকার করে বলেন সামান্য ত্রুটি থাকতে পারে। চেষ্টা করা হচ্ছে ভাল পরিবেশে উৎপাদন সেমাই উৎপাদন করা।
জেলা নিরাপদ অধিদপ্তরের অফিসার মাহমুদুল কবির জানান, গেল ২৫ ফেব্রুয়ারি আদুরী ফুড কর্তৃপক্ষকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কারখানা সিলগালা করার সুপারিশ করা হবে। ফলোআপ রাখা হচ্ছে।
আর এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম জানান, প্রতিটি কারখানায় অভিযান চলমান থাকবে। মানুষ যেনো ভাল খাদ্য পায় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
জেলা ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য মতে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় অন্তত বিশটির বেশি সেমাই কারখানা রয়েছে। প্রতিটিতে কারখায় গড়ে দৈনিক বিভিন্ন ধরনের ১০ মনের বেশি সেমাই উৎপাদন হয়।