নজমুল হক স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর ‘মেকানিক্যাল, ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড প্রোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিএমএমপিই-২০২৬)’ শীর্ষক দুইদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।৩১ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এ কনফারেন্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতোমধ্যে গৌরব আর নানা অর্জনের মধ্য দিয়ে ডুয়েট দেশের অন্যতম একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তরুণ গবেষকদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরির মাধ্যমে ডুয়েটের আয়োজিত এ কনফারেন্স চতুর্থ শিল্প বিল্পবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদেরকে আরো দক্ষ হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।’ তিনি বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের উন্নতির পর জীবনযাত্রার ব্যয় থেকে শুরু করে দেশের সবকিছুতে এর প্রভাব পড়বে। এমতাবস্থায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং জ্ঞানের আদান-প্রদানের মাধ্যমে গবেষণা ক্ষেত্রের মান উন্নয়ন ও সরকারি -বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের শিল্পখাতকে সমৃদ্ধ করতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘যন্ত্রকৌশল অনুষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যোগ দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চমৎকার এই কনফারেন্সটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য ডুয়েটের উপাচার্য, আয়োজক কমিটি, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট অধ্যাপক এবং দেশ-বিদেশের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
কনফারেন্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন প্রথম থেকে পর্যায়ক্রমে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের ইতিহাস আলোচনা করে বলেন, ‘যন্ত্রকৌশল, উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকৌশল শিল্প উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে সাইবার-ফিজিক্যাল সিস্টেম, ইন্টারনেট অব থিংস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এর ধারাবাহিকতায় আমরা থ্রিডি প্রিন্টিং, স্মার্ট টেক্সটাইল, সবুজ রসায়ন, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির মতো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিগুলো প্রত্যক্ষ করছি।’তিনি বলেন, ‘একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকে এসে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের প্রাক্কালে আমার বিশ্বাস, এই কনফারেন্সটি ভবিষ্যতের জটিল প্রকৌশল বিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ও দেশের জন্য টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে এবং জ্ঞানের আদান-প্রদান ও সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। আমি ডুয়েটের যন্ত্রকৌশল অনুষদকে শিক্ষার এবং গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের নিরলস প্রচেষ্টা ও কনফারেন্সটি সফল করার জন্য ধন্যবাদ জানাই।’
কনফারেন্সের পৃষ্ঠপোষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, ‘দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত এ কনফারেন্স এডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, টেকসই এনার্জি, নিরাপদ প্রক্রিয়াকরণের মতো বিষয়ে আন্তঃসহযোগিতা, সমন্বিত গবেষণা, উদ্ভাবনী সমাধান এবং পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের উপযোগিতা, প্রয়োজনীয়তা ও প্রেরণা নিয়ে সমাপ্ত হতে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘গবেষণাকে পেপারে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প ও সমাজের কল্যাণে এর ব্যবহারিক প্রয়োগই গবেষণার পরিপূর্ণতা আনে। ডুয়েটের অন্যতম লক্ষ্যও এটিই।’ কনফারেন্সের লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে কাজে লাগিয়ে এখান থেকে অর্জিত শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তরুণ গবেষকদের প্রতি তিনি আহবান জানান।কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে কী-নোট বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. সুং ইওন কাং এবং মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. রুইগ্যাং ওয়াং।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন ও কনফারেন্স চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি সুষ্ঠুভাবে কনফারেন্সটি সফল করতে সহযোগীতা করায় স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোসহ অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কনফারেন্স অরগানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজ এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. এ এন এম মোমিনুল ইসলাম মুকুট। উল্লেখ্য, দুইদিন ব্যাপী এ আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বিভিন্ন বিষয়ে মোট ১৯৫ টির অধিক টেকনিক্যাল পেপার, কী নোট বক্তৃতা, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক কোলাবোরেশন ইত্যাদি উপস্থাপিত হয়েছে এবং এর মধ্য থেকে বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. রুইগ্যাং ওয়াং ও ডুয়েটের পিএইচডি গবেষক মনির হোসেন বেস্ট পেপার উপস্থাপনের জন্য যৌথভাবে অ্যাওয়ার্ড পান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তাসহ দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ অংশগ্রহণ করেন।