হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি।
নীলফামারীর ডোমারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, পরীক্ষা কেন্দ্রে চরম বিশৃঙ্খলার কারণে চারটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছে ডোমার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
জানাযায় এর আগেও অনুরুপ ঘটনায় উল্লেখিত নিয়োগটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর)সকাল ১০টায় ডোমার উপজেলার কেতকিবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ চান্দখানা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪টি পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় পূর্ব নির্ধারিত ছিল ।
যথা সময়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠানেন জন্য বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষের তালা খুলতে যায় প্রধান শিক্ষক জহুরুল হক প্রামানিক। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক প্রধান শিক্ষককে রুমের তালা খুলতে বাধা দিলে এতে হট্টগোল শুরু হয়।
এদিকে মোছাঃ রত্না আক্তার নামে নিয়োগ পরীক্ষার এক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোশারফ হোসেন (ডোল মেম্বার) আমাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়েছে। কিন্তু এখন আমাকে নিয়োগ না দিয়ে সভাপতি তার মেয়ে ও নাতিকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এখন তিনি আমাকে নিয়োগ না দিয়ে নিয়োগের জন্য আমার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দিতে চায়। যা আমার জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন রত্না আক্তার।
এ সময় বিদ্যালয় মাঠে একদল যুবক জয় বাংলার দেশে, দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই নেই’ বলে শ্লোগান দিতে থাকে।
প্রধান শিক্ষক জহুরুল হক প্রামানিক জানান, ইউপি সদস্যা জেবুননেছার স্বামী সলেয়মান বিএনপি করে। তিনি নিয়োগ পরীক্ষা বানচাল করার নানান ষড়যন্ত্র করছে। এই বিশৃঙ্খলার জন্য নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোশারফ হোসেন (ডোল মেম্বার) জানান, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়েগ পরীক্ষায় যে উত্তীর্ণ হবে তাকেই নিয়োগ দেওয়া হবে। তার মেয়ে ও নাতীকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
ডোমার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাকেরিনা বেগম মুঠোফোনে বলেন, উক্ত বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করার কারনে সেখানে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ নেই। তাই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ যে, ডোমার উপজেলার কেতকিবাড়ী ইউনিয়নেন দক্ষিণ চান্দখানা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারি, পরিচ্ছন্ন কর্মী, আয়া ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাবার জন্য ৪১ জন চাকুরী প্রত্যাশী আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ৪ টি পদে ৪ জনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে বিশৃঙ্খলার কারণে স্থগিত করা হয়।
এর আগে পরীক্ষায় অনিয়ম, সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের আত্মীয়দের চাকুরী দেওয়া হতে পারে মর্মে ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।