বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
শ্রীপুরে ৪০ দিনব্যাপী ফজর ক্যাম্পেইন সম্পন্ন, অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার প্রদান পাইকগাছায় সামছুর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ  পাইকগাছায় অগ্নিকাণ্ডে মুদি দোকান ভস্মীভূত  এলজিআরডি মন্ত্রীর একান্ত সচিব ইউনুস ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেলেন নবাব সীমান্তে সিসিটিভিতে ধরা পড়ল কুকুর সদৃশ রোবট আতংকে এলাকবাসী পাইকগাছায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত  পাইকগাছার ঐতিহ্য রক্ষায় বড় উদ্যোগ বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মভিটা সংস্কারে নেমেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর শ্রীপুরবাসীকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানালেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শফিকুল ইসলাম ভেড়ামারায় পবিত্র রমজান উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৩ দোকানিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা কয়রায় প্রকল্প ও  পাইলট কার্যক্রমের সাফল্য চ্যালেজ ও করণীয় বিষয়ে বিশ্লেষন সভা

তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি-যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর / ২৪ টাইম ভিউ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর 

 

‘হামার তিস্তা নদী যাই বাঁধি দিবো, হামরা তাকে ভোট দিমু।’ কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তিস্তাপারের চরাঞ্চলে এখন এই এক সুর। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার—প্রচারণা তুঙ্গে থাকলেও ভোটারদের মাঝে কাজ করছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষোভ। তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি— এবার আর মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই।

 

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নের বড় একটি অংশ তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে বিভক্ত। এখানকার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। কিন্তু প্রতি বছর ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে চরের মানুষের একটাই চাওয়া—‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন ও নদীশাসন। এমনকি আশ্বাস না পেলে অনেকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

 

কিশোরপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল বারী (৬০) জানান, তাঁর বাড়ি নদী ভেঙেছে তিন বার। আগে চাষাবাদ করে সংসার চললেও এখন ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। একই এলাকার ৭৫ বছর বয়সী মোঃ আব্দুল আজিজের গল্প আরও করুণ। ১১ বার নদীভাঙনের শিকার হয়ে গত ২০ বছর ধরে যাযাবরের মতো এক চর থেকে অন্য চরে ঘুরছেন। তাঁর আক্ষেপ, ‘নদী হামার জীবন তেনা তেনা করি ফ্যালাইছে বাহে।’

 

সরেজমিনে বিভিন্ন চর ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও এবার ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ আছে। তবে অভিযোগও কম নয়। চরের বাসিন্দারা নিয়মিত খাজনা দিলেও দুর্যোগের সময় কাউকে পাশে পান না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

কিশোরপুর চরের বালু বহনকারী ঘোড়ার গাড়িচালক আবুল হোসেন ও তৈয়ব আলীদের কণ্ঠেও একই দাবি—তারা আর পরবাসী হয়ে থাকতে চান না। তিস্তা নদীশাসনের মাধ্যমেই তারা তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করতে চান।

 

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার একটি একক আসন নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম—৩। এখানকার মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০, যার একটি বড় অংশই চরাঞ্চলের বাসিন্দা। এ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধানের শীষ প্রতীকে মোঃ তাসভীর—উল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার মোঃ মাহবুবুর আলম ছালেহী, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ আব্দুস সোবাহান, হাতপাখা প্রতীকে ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী সরকার, ট্রাক প্রতীকে সরকার মোঃ নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও হাঁস প্রতীকে এডভোকেট মোঃ শাফিউর রহমান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর