অনুপ তালুকদার হাওর অঞ্চলের প্রতিনিধি;
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়ন যুব লীগের সাধারন সম্পাদক এরশাদ আকন্দের বিরুদ্ধে মসজিদের টাকা আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে এক সাংবাদিক সম্মেলণ অনুষ্টিত হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার গাছতলা বাজারে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্টানে এ সাংবাদিক সম্মেলণের আয়োজন করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলণে উপজেলার জিংলীগড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি কারী মো. আব্দুল হাসিম, সাধারন সম্পাদক মো. দুলাল মিয়া, সদস্য মো.আজিজুল ইসলাম, মো. মোবারুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মামুন আকন্দ, মোফাজুল হোসেন, হাবি রহমানসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলণে লিখিত বক্তব্যে যুবলীগ নেতা ও জিংলীগড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি এরশাদ আকন্দ বলেন, আমি ওই মসজিদের সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালীন মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিঃ মোজাম্মেল হোসেন রতনের বদৌলতে এ মসজিদের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। এছাড়াও আমার কমিটির মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগ মূহুর্তে অর্থাৎ ৩০-২১-২২ অর্থ বছরেও আমি আমাদের এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে এই মসজিদের জন্য আরো ৫০ হাজার টাকা (টিআর) বরাদ্দ আনতে সক্ষম হই। উক্ত বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলণ করে মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের কাছে হস্তান্ত্রী করি। এসময় কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ ছাড়াও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিতিত ছিলেন। কিন্তু সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকাসহ মসজিদের আয় ব্যয়ের সাকুল্য হিসাব যথাযথভাবে বর্তমান কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার পরও আমাদের গ্রামের একলেমুর রেজা নামে এক ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে বারবার ইউএনও মহোদয়ের বরাবরে মসজিদের টাকা আত্মসাতের মিথ্যা লিখিত অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছেন। তাই আমি এ সাংবাদিক সম্মেলণের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে আনা এসব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, আমি আপনাদের দোয়ায় ও আমার প্রতি এলাকাবাসীর সার্বিক সমর্থন ও ভালবাসা থাকায় তাঁরা আমাকে এই অল্প বয়সে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক, মসজিদ কমিটির সভাপতি, গাছতলা বাজার কমিটির সভাপতি ও গাছতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়েছি। মূলত একটি চক্র আমার এসব সফলতা বিষয়ে ঈর্ষাহ্নিত হয়ে তারা আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই তারা এ ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপ-প্রচার চালিয়ে পাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে জিংলীগড়া জামে মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি কারী মো. আব্দুল হাসেম বলেন, এরশাদ আকন্দ মসজিদের কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি। তিনি একজন ভাল মানুষ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ আনার বিষয়টি সত্যি খুবই দুঃখজনক। সময় সাংবাদিক সম্মেলণে উপস্থিত মসজিদ কমিটির সাধারন সম্পাদক দুলাল মিয়াসহ সকলেই একই ধরনের মন্তব্য করেন।
উপজেলার পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, এরশাদ আকন্দ আমার উপস্থিতিতেই মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নিকট মসজিদের আয়- ব্যয়ের সাকুল্য হিসাব বুঝিয়ে দিয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ আনাটা খুবই লজ্জাজনক।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, জিংলাগড়া মসজিদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকা মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি বুঝে পেয়েছেন মর্মে আমার কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। পাশাপাশি উক্ত অভিযোগ থেকে এরশাদ আকন্দকে অব্যাহতি দিয়েছেন ইউএনও স্যার।