বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
যথাযোগ্য মর্যাদায় রংপুরে মহান বিজয় দিবস পালিত বগুড়ার শেরপুরে বিএনপির পার্টি অফিস ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার- ৪ বগুড়ার শেরপুরে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত কয়রায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত রাজারহাটে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে, বীর শহীদদের স্বরণে পুষ্পমাল্য অর্পণ শ্রীপুরে চকপাড়া সমাজ কল্যাণ সংঘের উদ্যোগে বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে মহান বিজয় দিবস উদযাপন  ডুয়েটে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত  কয়রায় বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন  বগুড়ার শেরপুরের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী কুদু ভূইয়ার ইন্তকাল

ধুনটে লাইসেন্স বিহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছড়াছড়ি, কতৃপক্ষ নিরব

রিপোর্টারের নাম / ১৮২ টাইম ভিউ
আপডেট : শনিবার, মার্চ ২৫, ২০২৩, ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ

মোঃ ফজলে রাব্বী শুভে

 

ধুনটে অবৈধ লাইসেন্স বিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছড়াছড়ি, কতৃপক্ষের উদাসীনতায় চলছে গলাকাটা বানিজ্য। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর সারাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান চললেও ধুনটে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকগুলি চালিয়ে যাচ্ছে, ব্যাঙগের ছাতার মতো ভূঁইফোড় এসব, বে-সরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে গলাকাটা বাণিজ্যও থেমে নেই। মানা হচ্ছেনা সরকারি নিয়মনীতি কিংবা নির্দেশনা। স্বাস্থ্য বিভাগের বেঁধে দেয়া ৭২ ঘন্টা সময় অনেক আগেই পার হলেও উপজেলায় অবৈধ ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠা (প্রাঃ) হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান না হওয়ায়, তা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে উপজেলাবাসীর মনে। গ্রাম্য-হাতুড়ে ডাক্তার নামধারীরা এইসব হাসপাতালের মালিক সেজে বসে আছে। জানাগেছে, চিকিৎসা সেবার নামে গড়ে উঠা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকে নিয়োজিত দালাল চক্র বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সহজ-সরল নিরীহ রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাররা চালাচ্ছেন কমিশন বানিজ্য। ডাক্তার-ডায়াগনস্টিকের যোগসাজশে রোগীদেরকে নির্দিষ্ট প্যাথলজীতে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। থেমে নেই এ্যম্বুলেন্সের ড্রাইভার হেলপার থেকে শুরু করে ফার্মেসীর কর্মচারীরাও। দালাল চক্রের সাথে তাল মিলিয়ে তারাও নেমেছে কমিশন বানিজ্যে। সারাদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি রুমসহ আশেপাশে ওৎপেতে বসে থাকে দালালচক্র। হাসপাতালে স্ব-বেতনের নামে বেশ কয়েকজন দালাল সহযোগীতার নামে রুগী আসলেই তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং সুযোগ বুঝে পাঠিয়ে দেয় পছন্দের প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। আর এই সুযোগে ৮০ টাকার ইসিজি রিপোর্ট করতে রোগীর কাছ থেকে নেওয়া হয় ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। কমিশন হিসাবে দালাল পান ১৫০-২০০ টাকা। তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু ডাক্তারও ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিকের সাথে মিলেমিশে টেষ্ট বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারছে। শুধু তাইনা ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে উপহার উপঢৌকন নিয়ে লিখছেন নিম্নমানের ওষুধ। ধুনটে উপজেলা অফিসকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ ক্লিনিক-হাসপাতাল তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

ফলে সাধারণ মানুষ অর্থ খরচ করেও উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব ক্লিনিক ডায়াগনস্টিকের মালিকরা বছরে লাখ লাখ টাকা অর্থ বানিজ্য করে আসছে রোগী সাধারণকে জিম্মি করে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে ১০ শয্যার অনুমতি থাকলেও ৩০ থেকে ৪০ শয্যা পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে। যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এরপরও রোগীদের চাপে সিজারিয়ান অপারেশন করা রোগীর সেলাই না কেটে ৩-৫ দিনের মাথায় বাড়িতে পাঠিয়ে নতুন রোগীর জায়গা করার ধান্দায়। দুর দূরান্ত থেকে কষ্ট করে আবারও ৭দিনের মাথায় ক্লিনিকে আসতে হচ্ছে সেলাই কাটার জন্য। নানা অজুহাতে আবারও কিছু টেষ্ট ধরিয়ে ও নতুন কিছু অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে আরেকবার গলা কাটা হচ্ছে। এসব কর্মকান্ড (প্রাঃ) হাসপাতালের নিত্যদিনের ঘটনা। এছাড়া বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের করুণ চিত্রতো বলার বাহিরে রয়ে যায়। সপ্তাহে একদিন ডাক্তার সিরিয়াল দিয়ে একের পর এক কসাইয়ের মত রোগি অপারেশন করে চলে যায়। রোগিদের দেখাশোনা করে তথাকথিত অদক্ষ সেবিকারা। আর প্রাইভেট ওইসব হাসপাতালে (এনেস্থেশিয়ান) অজ্ঞান ডাক্তারতো যেন সোনার হরিণ। সবগুলি ক্লিনিকেই অজ্ঞান ডাক্তার ছাড়াই হচ্ছে সিজারিয়ান অপারেশনসহ নানা অপারেশন। ফলে কিছু দিন যেতে না যেতেই রোগীরা কোমরে যন্ত্রনা নিয়ে নতুন রোগীতে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে রোগির অবস্থা মারাত্মক মৃৃৃৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়লে রোগিকে দেওয়া হয় যশোর-খুলনা অথবা রাজধানীতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ। যে কারণে রোগি হাসপাতাল ত্যাগ করলে পরবর্তীতে নানান জটিলতায় ভূগে মৃৃৃত্যুর মুখে পতিত হন। এ ছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, অভয়নগরে শিশু বিশেষজ্ঞ কোন ডাক্তার নেই, অথচ নবজাতক শিশুর চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় অনভিজ্ঞ ওয়ার্ড বয় ও সেবিকাদ্বারা। অক্সিজেন লাগিয়ে কোনমতে তিন চারদিন পার করতে পারলেই বাণিজ্য হয় রমরমা। পরবর্তীতে অক্সিজেন ও বেড ভাড়াবাবদ ধরিয়ে দেওয়া হয় মোটা অংকের ভাউচার। এতে করে সেবা নিতে এসে প্রতারিত হচ্ছে অসহায় হত দরিদ্রসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এভাবে যেন সাধারণ মানুষ সেবা নিতে এসে প্রতারিত না হয় সে ব্যাপারে তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বগুড়া জেলা সিভিল সার্জনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন ভূক্তভোগী সাধারণ রোগিরা। এদিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের সব অবৈধ এবং অনিবন্ধিত হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার পর ধুনটে একটি লোক দেখানো অভিযানও চোখে পড়েনি বলে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। তাদের অভিযোগ সম্প্রতি সিভিল সার্জন ধুনটে আসলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে আলাপচারিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। এনিয়ে যেন সাধারণ মানুষের মন্তব্যের শেষ নেই। আর সব দায় যেন সাংবাদিকদের -এমনটাই আশা ওইসব সম্মানিত সাধারণ মানুষের। আর তাদের কথাগুলি এভাবেই তুলে ধরা হলো, যদি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তাব্যক্তিদের একটুও টনক নড়ে। তাদের অভিযোগের যেন শেষ নেই- তারা জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার পরও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণেই স্বাস্থ্যবিভাগের এমন করুণ পরিণতি। এবিষয়ে জানার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফোন করলেও ফোনটি রিসিভ করেননি।

 

এব্যাপারে বগুড়া সিভিল সার্জন জানান, ধুনট অনেকগুলি ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক রয়েছে যাদের অনেকের নিবন্ধন নাই, আবার অনেকের নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েগেছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতসময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর