শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
উচ্চ শিক্ষায় জ্ঞানচর্চার বর্তমান বাস্তবতা: প্রফেসর ড. মো: আবু তালেব  কাশিমপুর কারাগার থেকে কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর  স্বামীর গচ্ছিত টাকা ফেরত দিতে কিডনি বিক্রির আকুতি, পাশে দাঁড়ালেন ডাঃ মোতাসিম বিল্লাহ আলম  স্লিম কমিউনিটির উদ্যোগে গাজীপুরে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মোংলা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ১৪জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন গাজীপুর মহাসড়কের দুই পাশের বর্জ্য সরিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় আনা হবে মোংলায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংঘের ইফতার ও দোয়া মাহফিল গাজীপুরে এতিম শিশুদের সাথে বিডিআরএমজিপি এফএনএফ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও নৈশভোজ শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডবাসীকে ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানালেন মেম্বার পদপ্রার্থী মনিরুল ইসলাম মাদবর ভিজিএফের তালিকা প্রনয়নে অনিয়মের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলা

নবাবপুরের শতবর্ষী অন্ন ছত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি / ৪৯ টাইম ভিউ
আপডেট : সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ

মোঃ কামাল হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি

 

মদন-মোহন অন্ন ছত্র ট্রাস্টে সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রশ্ন, কর্তৃপক্ষের অস্বীকার।রাজধানীর নবাবপুরের ঐতিহ্যবাহী জনহিতকর প্রতিষ্ঠান মদন-মোহন অন্ন ছত্র ট্রাস্ট-এর সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। ট্রাস্টের একাধিক সম্পত্তি ও আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও ট্রাস্টের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ট্রাস্টটি মূলত অসহায় ও অনাথদের খাবার বিতরণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এখানে একবেলা খাবার পেতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন সুবিধাভোগী।

ট্রাস্টের নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় ট্রাস্টের অধীনে ১৯টি বাড়ি ও ৭-৮টি মার্কেট ছিল। বর্তমানে এর সংখ্যা কমে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নবাবপুর সড়কের ১২২, ১৬৭, ১৯২, ১৯৩ ও ১৯৪ নম্বর হোল্ডিংয়ে পাঁচটি বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া কোতোয়ালি থানার পাটুয়াটুলির ইসলামপুর সড়কের ৫১/এ নম্বর হোল্ডিংয়ে ‘বাবুলী ইসলামপুর কমপ্লেক্স’ এবং ওয়াইজঘাট সড়কের ৩/২ নম্বর হোল্ডিংয়ে ‘বাবুলী স্টার সিটি’ নামে দুটি ভবন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভবন নির্মাণ ও ফ্লোর বিক্রির ক্ষেত্রে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি এবং আম-মোক্তারনামা প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না। এ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন সাবেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। অডিট ও হিসাব প্রদর্শনে অনিয়মের অভিযোগ ট্রাস্টের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবছর অডিট রিপোর্ট সদস্যদের সামনে উপস্থাপনের বিধান রয়েছে। তবে কয়েকজন সদস্য দাবি করেছেন, নিয়মিত অডিট প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় না। ট্রাস্টের মাসিক ভাড়া আদায়ের পরিমাণ এবং তা ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ। কয়েক মাস আগে ট্রাস্টের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন-এ অভিযোগ জমা পড়ে। কমিশন প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রাস্টের সিইও বিশ্বজিৎ ও হিসাবরক্ষক শিবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, নিয়ম মেনেই ট্রাস্ট পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিদিন কয়েক শ মানুষকে খাবার দেওয়া হয়। ভবনগুলোর ফ্ল্যাট ও দোকানের পজিশন পূর্বেই বিক্রি করা হয়েছে বলেও তারা জানান। তবে সরেজমিন উপস্থিত থেকে দেখা যায়, সাম্প্রতিক একদিনে ৮০ জনের মতো মানুষকে খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, শতবর্ষী এই দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও লক্ষ্য রক্ষা করা জরুরি। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও আর্থিক নিরীক্ষা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা। একজন সুবিধাভোগীর ভাষায়, এই অন্ন ছত্র আমাদের ভরসা। এখানে যদি অনিয়ম হয়, তাহলে অসহায় মানুষেরই ক্ষতি হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর