শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
ভেড়ামারায় জ্যেষ্ঠ নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ উচ্চ শিক্ষায় জ্ঞানচর্চার বর্তমান বাস্তবতা: প্রফেসর ড. মো: আবু তালেব  কাশিমপুর কারাগার থেকে কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর  স্বামীর গচ্ছিত টাকা ফেরত দিতে কিডনি বিক্রির আকুতি, পাশে দাঁড়ালেন ডাঃ মোতাসিম বিল্লাহ আলম  স্লিম কমিউনিটির উদ্যোগে গাজীপুরে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মোংলা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ১৪জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন গাজীপুর মহাসড়কের দুই পাশের বর্জ্য সরিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় আনা হবে মোংলায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংঘের ইফতার ও দোয়া মাহফিল গাজীপুরে এতিম শিশুদের সাথে বিডিআরএমজিপি এফএনএফ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও নৈশভোজ শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডবাসীকে ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানালেন মেম্বার পদপ্রার্থী মনিরুল ইসলাম মাদবর

নির্বাচন সামনে রেখে ষড়যন্ত্র হচ্ছে : রংপুরে ডা. শফিকুর রহমান 

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর / ১০১ টাইম ভিউ
আপডেট : শুক্রবার, জুলাই ৪, ২০২৫, ৮:২৭ অপরাহ্ণ

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর

 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশটা কেউ কেউ পাটগ্রাম বানিয়ে ফেলছে, যার কারনে বর্তমান সময়ে সুষ্ঠ নির্বাচনের কথা কল্পনাও করা যায় না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কতগুলো মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন রয়েছে। সেই মৌলিক সংস্কারের কথা আমরা বলেছি। আমরা মৌলিক সংস্কার করে ছাড়বো এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমীর বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা শুনতে পাচ্ছি। আমরা সবাইকে স্মরণ করে দিতে চাই। কেউ যদি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলের মতো স্বপ্ন দেখে থাকেন। তাহলে বলতে চাই, মহান আল্লাহর সাহায্যে আমরা সেই স্বপ্নকে দু:স্বপ্ন করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এমন কিছু বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। দেশে কোন মাস্তানতন্ত্র চলবে না, কালো টাকার খেলা চলবে না। প্রশাসনের ক্যু চলবে না। নির্বাচনের সময় কেউ যেন অপকর্ম করতে না পারে। এজন্য আমরা সজাগ রয়েছি। জনগনের ভোটে সুষ্ঠভাবে নির্বাচনে যারাই জয়ী হবে তাদের স্বাগত জানাতে এখন থেকেই আমরা প্রস্তুত। আমরা আরো বলতে চাই, হাসিনার হাতে সব বাহিনী ছিলো। জনবিষ্ফোরনের কারনে ক্ষমতা আটকাতে পারেনি তারা। পালিয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদের নিশ্চিহ্ণ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

তিনি আরো বলেন, সংখ্যালঘুদের নিয়ে যারা মায়া কান্না করেছে, তারাই সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুট করেছে। আমরা দেশের মধ্যে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানি না। এ দেশের মাটিতে যারাই জন্ম গ্রহণ করবে, তারাই এদেশের সম্মানিত নাগরিক। আমরা কথা দিচ্ছি, সংবিধান অনুযায়ী আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াবো। ওরা মালিক হয়েছিলো জনগনের। আমরা জনগণের সেবক হবো ইনশাআল্লাহ।

ডা. শফিকুর রহমানে বলেন, মদিনার ছায়ার আলো এই বাংলাদেশে আমরা দেখতে চাই। শরিয়ার কথা শুনলে অনেকে গায়ের লোম খাঁড়া হয়ে যায়। কেননা তারা ঘুষ দুনীতি করতে পারবো না, যা ইচ্ছে তা করতে পারবে না, পর নারীর ইজ্জত লুট করলে তাদের জীবন থাকবে না, চুরি করলে তার হাত থাকবে না। এমন মদিনার ছায়া আমরা এ দেশে দেখতে চাই।

মব প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, দেশে মব কালচার নতুন না। ৭২ সাল থেকেই দেশে মব চলছে। ৭২ সালে মায়ের স্তন কেটে উল্লাস করেছে, এমন কুলাঙ্গার বাংলাদেশে আছে। সে নারী যেই হউক, সে আমার মা, সে নারী আমার বোন, আমার মেয়ে। তার স্তন কাটার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মানুষ মারা হয়েছে। সেগুলো কি মব ছিলো না। সেগুলো মব ছিলো। তবে মব কে সমর্থন করার সুযোগ নেই আমাদের। কোন নাগরিক নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার অধিকার রাখে না। দেশের সরকার ও বিচার বিভাগ বিচার করবে। সেই আইন দেশের সংবিধানে রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আবু সাঈদ বিশাল আন্দোলনের আইকনিক পার্সন ছিলেন। তিনি রংপুরের গর্ব । ২৪ জুলাইয়ে যারা নিহত হয়েছে, যারা আহত হয়েছে। আহতদের এখনও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এসবের সাথে যারা জড়িত ছিলো, এদেশের মানুষে তাদের বিচার দেখতে চায়। তাদের বিচার হলে, তাহলে ভবিষৎতে কোন দলকে কেউ দুষ্ঠু করতে পারবে না। যদি বিচার না হয়, তাহলে ন্যায় বিচারের সংস্কৃতির অভাবে, বাংলাদেশ জঙ্গলে পরিণত হবে।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যা দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ হচ্ছে। আইনশৃঙখলা বাহিনীকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আইনশৃঙখলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলি, অতিতে যারা অপরাধ করেছেন, তাদের বিষয়টা রাষ্ট্র দেখবেন। এখন আপনারা যারা দায়িত্বে রয়েছেন, আপনারা দায়িত্ব পালন করুন। আপনারা ন্যায়ের পক্ষে থাকবেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। জনগণ আপনাদের পাশে দাঁড়িয়ে আপনাদের শক্তি যোগাবে ইনশাআল্লাহ। আমরাও আপনাদের পাশে থাকবো। কিন্তু অন্যায় দেখলে আমরা সবার আগে প্রতিবাদ করবো। অতএব অন্যায়কারীর পক্ষ নিবেন না। জনগণের বিপক্ষে যাবেন না। জনগণের বিপক্ষে গেলে কি পরিণতি হয় সেটা ২০২৪ সালে দেখেছেন।

দীর্ঘ ১৭ পর রংপুরে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সদ্য কারামুক্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, শহিদ আবু সাঈদের বাবা ও বড়ভাই রমজান আলীসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। সভাপতিত্ব করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগরের আমীর এটিএম আজম খান।

এর আগে সকাল থেকেই জনসভাস্থলে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। দূর-দূরান্ত থেকে রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে জনসভায় জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মাঠেই দুটি জামাতের মাধ্যমে জুমার নামাজ আদায় করেন তারা। এছাড়াও রংপুর নগরীর বিভিন্ন মসজিদে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে জনসভা মাঠে প্রবেশ করেন তারা। জনসমাবেশস্থল ছাড়াও ডিসির মোড়, কাচারী বাজার, আরডিআরএস মোড়সহ বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মীদের উপচে পরা উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। কখনও রোদ, কখনও ছায়া, এই রোদছায়ার লুকোচুরি আবহাওয়ার মাঝেই মাঠে বক্তব্য শোনেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। বক্তব্যের শেষে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে সমাবেশস্থল। সেই সাথে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ছেয়ে যায় পুরো মাঠ।

উল্লেখ্যে: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সব খুনির বিচার, প্রয়োজনীয় সব সংস্কারের পর নির্বাচনসহ চার দফা দাবিতে জনসভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর ও জেলা শাখা। জনসভা থেকে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর