শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
উচ্চ শিক্ষায় জ্ঞানচর্চার বর্তমান বাস্তবতা: প্রফেসর ড. মো: আবু তালেব  কাশিমপুর কারাগার থেকে কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর  স্বামীর গচ্ছিত টাকা ফেরত দিতে কিডনি বিক্রির আকুতি, পাশে দাঁড়ালেন ডাঃ মোতাসিম বিল্লাহ আলম  স্লিম কমিউনিটির উদ্যোগে গাজীপুরে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মোংলা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ১৪জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন গাজীপুর মহাসড়কের দুই পাশের বর্জ্য সরিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় আনা হবে মোংলায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংঘের ইফতার ও দোয়া মাহফিল গাজীপুরে এতিম শিশুদের সাথে বিডিআরএমজিপি এফএনএফ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও নৈশভোজ শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডবাসীকে ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানালেন মেম্বার পদপ্রার্থী মনিরুল ইসলাম মাদবর ভিজিএফের তালিকা প্রনয়নে অনিয়মের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলা

পাইকগাছার ঐতিহ্য রক্ষায় বড় উদ্যোগ বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মভিটা সংস্কারে নেমেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

শেখ খায়রুল ইসলাম পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি / ৫৭ টাইম ভিউ
আপডেট : বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ

শেখ খায়রুল ইসলাম পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

 

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাডুলী গ্রামে অবস্থিত ভারতীয় রসায়ন শাস্ত্রের জনক আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (পি সি রায়) এঁর জরাজীর্ণ বাড়ী (জন্মভিটা) সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবহেলায় ধ্বংস্তুপে পরিণত হওয়া বাড়িটির বসতভিটা ও ভবন মেরামতের মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। এই সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে জরাজীর্ণ বাড়িটি তার হারানো জৌলুস ফিরে পাবে বলে আশাবাদী এলাকাবাসী।জানাযায়, ডিসেম্বরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বিজ্ঞানী স্যার পিসি রায়ের পৈতৃক ভিটা সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। দীর্ঘকাল অবহেলায় থাকা বাড়ীটি সংরক্ষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানী পিসি রায়ের স্মৃতি এবং ইতিহাস রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় এই সংস্কার কাজের তত্ত্বাবধান করছে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংস্কারের মাধ্যমে বাড়ীটিকে পূর্বের আদলে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, স্যার পিসি রায়ের বাড়ীটির প্রায় ৫ একর সম্পত্তিই ১৯৮৫ সাল থেকে বেদখল ছিল। এর বিরুদ্ধে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালিত হয়। দীর্ঘ ওই আন্দোলনের ফলে ২০০৩ সালে দখল মুক্ত হয় ঐতিহাসিক বাড়ীটি। কিন্তু বাড়ী প্রায় ৫ একর সম্পতির আয়তন হলেও মাত্র ৯৬ শতক সম্পত্তি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে গ্রহন করে বাকিটা ফেলে রাখে। ফলে সেই সময় থেকে স্থানীয়দের মাঝে জন্ম নেয় ক্ষোভ।স্যার পিসি রায় ভারতের প্রথম শিল্প প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি মার্কারি ও নাইট্রেট বা মারকিউরাস নাইট্রেটের আবিষ্কারক। তিনি ছিলেন শিল্পায়নের প্রথম যুগের অন্যতম স্থপতি। বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান ইতিহাসে অনন্য। বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, দার্শনিক ও মানবিক মূল্যবোধে অনন্য এই মানুষটির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি যেন আজ শুধু অবহেলার সাক্ষী। পাইকগাছার রাড়লীতে অবস্থিত প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা স্যার পিসিরায়ের প্রায় ২০০ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ পৈতৃক ভিটা সংস্কারের কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত রাডুলী গ্রামের এই ঐতিহাসিক বাড়ীটির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সংস্কার কাজ এখন চলমান, কাজ শেষ হলে এটি একটি অন্যতম দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যা দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ করবে।খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক প্রত্নতত্ব বিভাগ সুত্রে জানা যায়, এ বছর বাড়ীর দোতলা ভবন সংস্কার করা হবে দরজা জানালা বাদে। পরবর্তিতে বাড়ির ভিতরের ভবন ও মন্দির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। উত্তর পাশের দোতলা ভবনের ৫টি কক্ষ, দুইটি বারান্দা, বাইরের পলেস্তরা, চারপাশের রং করাসহ নান্দনিক নকশা নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে এই সংস্কার কাজ শেষ হবে বলে মনে করছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাবেক সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ হরেকৃষ্ণ দাশ বলেন, ঐতিহাসিক বাড়ীকে দখলমুক্ত ও সংস্কার করার জন্য আমরা দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছিলাম। ২০০৩ সালে দখলমুক্ত হলেও অনেক দিনপর এবার সংস্কার হচ্ছে, এটি ভালো উদ্যোগ, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে সাধুবাদ জানাই। সংস্কার হলে এখানে অনেক বিদেশী ও দেশী পর্যটক আসবে বলে মনে করি।

খুলনা আঞ্চলিক প্রত্নতত্ব বিভাগের পরিচালক (রুটিন-দায়িত্ব) মোঃ মহিদুল ইসলাম বলেন, রসায়ন শাস্ত্রের জনক আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। বাড়ীর বিভিন্ন নকশা ঠিক রেখে অনুরুপভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরা বাড়ী সংস্কার হবে। তাছাড়া বাউন্ডারি ওয়াল ও ‘ডিসপ্লে রুম’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ওই সম্পত্তিতে ২ টি মামলা রয়েছে, মামলাগুলো নিস্পত্তি হলে আমরা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে নিতে পারবো। এরপর অর্থ বরাদ্ধ পেলে বাউন্ডারি ওয়াল ও ‘ডিসপ্লে রুম’ তৈরির কাজ শুরু করবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর