মোঃ মানছুর রহমান (জাহিদ)খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় দীর্ঘ ৩০ বছরের অধিক কাল পর আদালতের আদেশে জমি দখল নিলো ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি উপজেলার সোলাদানা ইউপির দীঘা মৌজায়। মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউপির গোলবুনিয়া গ্রামের অভিমান্য সরদারের মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র বৈদ্যনাথ সরদার ও অনুকূল সরদার দীঘা মৌজায় এস এ ১৯ নং খতিয়ানের ৭৪৩ দাগে ৬.৬৩ একর সম্পত্তির মালিক থাকেন। উক্ত সম্পত্তির হিস্যা অনুযায়ী অনুকূল সরদার ২৭/৬/১৯৭৪ তারিখে ৩২২০ নং রেজি: কবলায় ভ্যাকটমারী গ্রামের পণ্জু গাজী বরাবর হস্তান্তর করেন। পরে আইনের জটিলতা এড়াতে ২৪/১/১৯৭৯ তারিখে বৈদ্যনাথ সরদার ৪৭৮ নং নাদাবী করিয়া দেন। এর পর পন্জু সরদার সহকারী কমিশনার ভুমি অফিস থেকে মিস ১১২৫/৮০-৮১ নং নাম পত্তন করিয়া ভোগ দখল করে আসছিলো। উক্ত নামপত্তন কেসের বিরুদ্ধে বেতবুনিয়া গ্রামের মৃত আনছার আলী সানার পুত্র ইয়াছিন সানা ১৫০ ধারার বিধান মতে সহকারী কমিশনার ভুমি পাইকগাছায় মিস ৯/৮৩-৮৪ কেসে নাম পত্তন বাতিল করলে পন্জু গাজী সাব জজ খুলনার ২য় আদালতে দেঃ ০৮/৮৯ নং ঘোষনা মূলক মামলা দায়ের করেন।যা পরবর্তীতে সাব জজ বানিজ্যিক আদালতে দেঃ ১১৪/৯১ নং মামলায় রূপ নেয় এবং ২৭/৫/৯২ তারিখে পন্জু গাজী রায় পায়। পরে ইয়াছিন গংরা রায়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দায়রা জজ ৪র্থ আদালত খুলনায় ২৪৭/৯২ নং আপিল মামলা দায়ের করেন। পর্যায় ক্রমে মামলাটি মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। সকল ক্ষেত্রে পন্জু গাজী রায় ও ডিক্রি পায়। সর্বশেষ ইয়াছিন গংরা সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনের ১৬৪১/১২ নং লিভ টু আপিল মামলা দায়ের করেন। যা ৯/১২ /২০১৫ তারিখে লিভ টু খারিজ করে এবং মুল দেঃ ১১৪/৯১ নং মামলার ২৭/৫/৯২ তারিখের আদেশ বহাল রাখেন। এ দিকে মামলা দীর্ঘ দিন চলমান থাকায় এবং জমি ইয়াছিন গংদের বাড়ির নিকটবর্তী হওয়ায় তার জোর পূর্বক আংশিক জমি দখলে নেয়। উক্ত জমি উদ্ধারের জন্য পন্জুর ওয়ারেশগন বিভিন্ন দপ্তরে ধন্যা দিতে থাকে। অবশেষে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবুর নিকট আবেদন করলে তিনি আবেদনটি সংশ্লিষ্ট সোলাদানা ইউপির পুলিশিং কমিটির সভাপতি / সম্পাদক বরাবর হস্তান্তর করেন। আবেদনটি নিয়ে সভাপতি সায়েদ আলী মোড়ল কালাই ও সম্পাদক শাহাবুদ্দিন শাহীন স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আইনজীবীদের সহায়তা নিয়ে তদন্ত পূর্বক মহামান্য হাইকোর্টের সুপ্রিম কোর্টের লিভ টু আপিল ডিভিশনের আদেশ অনুযায়ী নুরুজ্জামান গংদের অনুকুলে প্রতিবেদন প্রদান করলে পন্জু গাজী পুত্রগণ আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাদের সম্পত্তির দখল বুঝে নিয়ে বাঁধ বদ্ধি দিয়ে বাসা নির্মাণ করে মাছের পোনা ছেড়ে মাছ চাষ শুরু করেছে। দীর্ঘ দিন পর জমির দখল বুঝে নেওয়ায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এদিকে ইয়াছিন গংরা পাইকগাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। ওসি জিয়াউর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।