মোঃ ফারুক হোসাইন , জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
আলোচিত সংবাদ ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি বিক্রয়ের টাকা আত্বসাতসহ নানা অনিয়ম নিয়ে বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা, দৈনিক ভোরের আলো , দি ডেইলি স্টার, দৈনিক করোতোয়া, বার্তা বিচিত্রা পত্রিকাসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পত্রিকা গুলোতে তিনটি পর্বে বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম তুলে ধরা হয়। এতে জেলা শিক্ষা অফিসারের নজরে আসে খবরটি।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার ১ নং মোগলহাট ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড এ অবস্থিত ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয়। যা ১৯৯৪ সালে স্থাপিত হয়। এ সময় ফুলগাছ এলাকার বাসিন্দা মোঃ জালাল উদ্দিন ১১০ শতক ও মোঃ জহির উদ্দিন ৪০ শতক জমি প্রতিষ্ঠানের নামে কবলা করে দেন। এতে মোট ১৫০ শতক জমি ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯৭ সালে ফুলগাছ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে খারিজ করেন। এ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন দানকৃত ১৫০ শতক জমির মধ্যে ৪০ শতক জমি, জমিদাতা জহির উদ্দিনের পুত্র ও বিদ্যালয়ের করণীক জয়নাল আবেদীন ভোগদখল করে আসছেন প্রধান শিক্ষকের ছত্র-ছায়ায়।
তথ্য পাওয়া যায়, এ জমিতে গড়ে উঠা বেশ কয়েকটি দোকান থেকে প্রাপ্ত ভাড়া ও ফসল থেকে আসা অর্থ সবই ভোগ করেন প্রধান শিক্ষক ও করণীক। যার ১ টি টাকাও প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা হয় না বলে প্রমান পান জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারি।
অপর দিকে ১১০ শতক জমি, জমিদাতা জালাল উদ্দিনের মাধ্যমে বিক্রয় করে অর্থ আত্মসাত করেন ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী ও জমিদাতা জালাল উদ্দিন।
এতে জেলা শিক্ষা অফিসার তদন্ত করেন এবং তাদের জমি বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্যের প্রমান পান, ফলে প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী ও করণীক মোঃ জয়নাল আবেদীন উভয়কে কারন দর্শানোর নোটিশ দেন। সেই সাথে জমি উদ্ধারের জন্য মৌখিক ভাবে একমাস সময় দেন। এই সুযাগে প্রধান শিক্ষক অতি গোপনে সম্পুর্ন জমি অবৈধ ভাবে লিজের নামে পুরো জমিই, জমি ক্রেতাদেরকে দখল দেন।
পরবর্তীতে ১ লা ফেব্রুয়ারি/২৩ তারিখে পুনরায় বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান জেলা শিক্ষা অফিসার। বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেন বিদ্যালয় ছুটি দিয়েছেন দুপুর ১২ টার মধ্যেই। অধিকাংশ শিক্ষক বাড়িতে চলে গেছেন। দুই-তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। তবে তারাও বাড়িতে যেতে প্রস্তুত ছিলেন। পরবর্তীতে একজন সহকারি শিক্ষক ফোন করে ডেকে আনেন প্রধান শিক্ষককে। শিক্ষা অফিসার প্রধান শিক্ষককের নিকট বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তিনি লিজ দিয়েছেন বলে জানান। লিজের কাগজ দেখতে চাইলে তিনি যে কাগজ দেখান যাতে উল্লেখ রয়েছে ১.৫০ একর জমি বার্ষিক লিজ দেয়া হয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকায়। অথচ এর বাজার মূল্য কমপক্ষে ৫৫,০০০/- টাকর উপরে। এতে প্রমানিত হয় যে, পুরো জমিই, জমি ক্রেতাদেরকে দখল দেন প্রধান শিক্ষক। যে কারনে জমি উদ্ধারে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি তিনি।
গত ৮ ই ফেব্রুয়ারি জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক প্রনীত এক প্রতিবেদন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে প্রেরণ করা হয়। এতে উল্লেখ রয়েছে যে, সকল বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের দূর্ণীতি এবং জমি উদ্ধারে তার কোন তৎপরতা নেই বলে প্রতিয়মান হয়। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্তের প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন যেন তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এবং বিদ্যালয়ের সমূদয় জমি উদ্ধার হয়।