মাহমুদুল হাসান
আধুনিকতার ছোঁয়া আর কালের বিবর্তনে প্লাস্টিকের দাপটেও টিকে আছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বাঁশ ও বেত শিল্প। বর্তমানে প্লাস্টিকের দাপটে এই শিল্প এখন হারিয়ে যাচ্ছে। নির্বিচারে বাঁশ কাটা পরিচর্যার অভাব এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অবহেলায় বাঁশঝাড় ক্রমশই কমে যাচ্ছে। উজার হচ্ছে প্রকৃতির দূর্যোগ প্রতিরোধক ও পরিবেশের পরম বন্ধু বাঁশঝাড়। যে কারণে সচরাচর হাট বাজার গুলোয় বাঁশের তৈরি শিল্প আগেরমত চোখে পড়েনা ।
এ শিল্পের সাথে জড়িত থাকা পরিবার গুলো এখন স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে পারছেনা। বর্তমানে প্লাস্টিকের মালামাল বেশি বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ পেশায় থাকা লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের পূর্ব পুরুষদের পেশা ধরে রাখতে তাহারা সাজি, কুলা, ডালা, চালুন, মুরগী আটকানো ঢাকনা চাই বুচনা ইত্যাদি নিজেদের হাতে তৈরী করছেন। তারা বলেন আমন মৌসুমে ধানঘরে তোলার সময় এর ব্যাবহার বেড়ে যায়।
সুভাষ হালদার জানান, আগে দিনরাত পরিশ্রম করে কাজ করতাম কিন্তু এখন চাহিদা কম এবং লাভ কম হওয়ার কাজ কমে গেছে। তিনি জানান, একটি বাঁশের দাম ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। একটি বাঁশ থেকে ৪/৫টি সাজি তৈরি করা যায়। প্রতিহাটে ৪ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি করলে ২ হাজার টাকা আয় হয়। এই সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়ে।
সুরঞ্জন বিশ্বাস জানান, এই ব্যবসা আমাদের ২৫ বছর ধরে চলে। বর্তমানে প্লাস্টিকের দাপটে আমাদের ব্যবসা আগের মত হয়না। তাছাড়া ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যতে এই ব্যবসা বন্ধ করে অন্য ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া ছাড়া আর বিকল্প কোন পদ থাকবে না। বর্তমানে বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য যে দাম তাতে আমাদের মত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা মুশকিল।
এলাকার সচেতন নাগরিকগণ মনে করেন, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া সহ সরকারের সুনজর দেওয়া দরকার।
আমাদের সকলের উচিত বাঁশের তৈরির বিভিন্ন মালামাল ক্রয় করে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা। আমরা আশা করি এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে।