শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালী/নারায়ণগঞ্জ: বরগুনার তালতলীতে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত স্ত্রী মোসাঃ আকলিমা বেগম (৩২) এবং তার কথিত পরকীয়া প্রেমিক মোঃ নেসার (৩৭)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই দুই অভিযুক্তকে ২৯/০৯/২০২৫ তারিখ রাতে পটুয়াখালী ও নারায়ণগঞ্জের দুটি ভিন্ন স্থান থেকে র্যাব-৮ এবং র্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে আটক করা হয়।
র্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী এবং র্যাব-১১, সদর কোম্পানী, নারায়ণগঞ্জ-এর যৌথ আভিযানিক দল প্রথমে নেছারকে পটুয়াখালী কলাপাড়া থানার শান্তিপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত আকলিমা বেগমকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি রহমতগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার কচুপাত্রা গ্রামের নাজিম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মাসুম বিল্লাহ তিন বছর আগে আকলিমা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। গত ছয় মাস ধরে আকলিমা মাসুম বিল্লাহর কাছে ৩৬ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। মাসুম এতে রাজি না হওয়ায় এবং স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে।
গত মঙ্গলবার (২০/০৮/২০২৪) বেলা ১১টার দিকে স্ত্রী আকলিমা বেগম স্বামীকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানেই আকলিমা ও তার সহযোগীরা সুকৌশলে সরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে মাসুম বিল্লাহকে খাইয়ে দেন এবং পালিয়ে যান।
বিষক্রিয়ার শিকার মাসুম বিল্লাহ কোনোমতে শারিকখালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ সোহেলকে ফোন করে বলেন, “আমাকে বাঁচাও। আকলিমা ও তার লোকজন আমাকে সরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে দিয়েছে।”
খবর পেয়ে সোহেলসহ স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০/০৮/২০২৪ তারিখ দিবাগত রাত ০২:১০ ঘটিকার সময় মাসুম বিল্লাহর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরের দিন ২১/০৮/২০২৪ তারিখে নিহত মাসুম বিল্লাহর বড় ভাই গোলাম কবির বাদী হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগমকে প্রধান আসামী করে তিন জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে তালতলী থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৭, তারিখ-২২/০৮/২০২৪, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ও বরগুনা জেলার তালতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।