বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
শ্রীপুরে জমি দখল নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: শফিকুল ও রফিক সরকারের সংবাদ সম্মেলন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) রেজাউল করিম পেলেন ‘ফুটবল’ প্রতীক গাজীপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ছদ্মবেশে অভিযান অবৈধ স্পিরিট উদ্ধার,গ্রেপ্তার ২ রংপুর-১ আসনে নির্বাচনে ছয় প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ  জাতীয় পার্টিকেই না করে দেবে জনগণ: আখতার হোসেন গণভোটে হ্যাঁ দিলে দলীয় সরকারের অধীনে আর নির্বাচন হবে না -ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ভেড়ামারায় অধিক মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে জরিমানা ভেড়ামারায় শীতার্তদের পাশে দাঁড়ালেন ব্র্যাক  ব্যাটারির দুশ্চিন্তা কমাতে ১০,০০১ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ‘লং-লাইফ টাইটান ব্যাটারি’ আনছে রিয়েলমি রেডমি নোট ১৫ সিরিজের মোড়কে তিনটি নতুন স্মার্টফোন আনলো শাওমি

বালিখেকোদের রোষানলে সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি

রিপোর্টারের নাম / ১৬৪ টাইম ভিউ
আপডেট : শুক্রবার, মার্চ ৩১, ২০২৩, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ

সোহেল মিয়া( সুনামগঞ্জ):

 

সুনামগঞ্জ ইজারা বিহীন ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ ভাবে বালু ও পাথর উত্তোলণ বন্ধ করে দেওয়ায় এবার বালিখেকো প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়েছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ও এস আই শরীফ উদ্দিন। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা নামে বেনামে ওসি ও এস আইয়ের বিরোদ্ধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করে যাচ্ছেন। এমনকি প্রভাবশালী চক্রটি ওসিকে এই থানা খেকে সরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিগত কয়েক বছর যাবত সদর ও বিশম্ভরপুর উপজেলার ধোপাজান চলতি নদীর ইজারা প্রদান বন্ধ রয়েছে। সরকারি ভাবে বন্ধ থাকার পরেও নদী তীরবর্তী এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের অবাধে বালি পাথর উত্তোলণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। ওসি সদর মডেল থানায় যোগদানের পর থেকে অবৈধ বালি পাথর উত্তোলনকারীদের বিরোদ্ধে নিয়মিত অভিযান বোমা নৌকাসহ বোমামেশিন আটক ও অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের বিরোদ্ধে মামলা দিয়ে আসছেন। এমনকি বালি উত্তোলনকারীদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা শাস্তির ঘটনাও ঘটেছে।

 

প্রভাবশালীদের কোটি কোটি টাকার বালি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওসির বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে আদাজল খেয়ে নেমেছে প্রভাবশালী মহল। ধোপাজান চলতি নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলণ বন্ধ করতে ও সরকারি সম্পদ নিরাপদে রাখতে সদর থানা পুলিশের উদ্যোগে ধোপাজান চলতি নদীর প্রবেশ মুখে কড়া পাহাড়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এতে বালিখেকো ও অবৈধ বোমা মেশিন পরিচালনাকারী সিন্ডিকেটের অবৈধ বালি পাথর উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের কড়া পদক্ষেপের ফলে নদীতে কোন বোমা মেশিন চলতে পারেনা নদীর গভীর থেকে বালি পাথর বহনকারী কোন নৌকা নদীর প্রবেশদ্বার দিয়ে বের হতে পারেনা। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা সুত্রে জানাযায়, অবৈধ ভাবে বালি পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সদর মডেল থানায় বালু মহাল মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ১১ টি মামলা, ২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ৯টি মামলা ও পরিবেশ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে শতাধিক অবৈধ বালি পাথর উত্তোলনকারীদের আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে ১৩ টি ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়া সহকারী কমিশনার ভুমির কর্তৃক ৫ টি ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে বালি পাথর বোঝাই নৌকা ও বোমা মেশিন আটক করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়। বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ধোপাজান নদীতে ভ্রামমান ৮৮ টি অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ বালি পাথর উত্তোলনকারীদের ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা করা হয়। ধোপাজান চলতি নদীর প্রবেশ মুখে প্রতিদিনে ও রাতে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কাইয়ারগাঁও গ্রামের আব্দুল হালিম জানান, দিনরাতে নৌকা দিয়ে নদীতে পুলিশ ঘুরাফিরা করে। তাই অবৈধ বালি পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়েছে। নিয়মিত মামলার কারণে এখন আরও নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলনের সাহস পায়না। একই গ্রামের আব্দুল হালিম বলেন, নদীর প্রবেশদ্বারে ২৪ ঘন্টা পুলিশের অবস্থান থাকায় কেউ একমুঠ বালি তুলতে পারেন না। নদী দিয়ে কোন বালি পাথর বোঝাই বাল্ক, স্টিলবডি নৌকা বারকি নৌকা কোন কিছুই চলাচল করে না। লিটন মিয়া জানান, সদর থানা পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে নদী থেকে বালিপাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সদর মডেল থানার এস আই মোঃ শরীফ উদ্দিন বলেন, ধোপাজান চলতি নদী বালি পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়ার কারণে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রভাবশালীরা ওঠেপড়ে লেগেছে। তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নামে বেনামে অভিযোগ দায়ের করে পুলিশকে বিতর্কের মধ্যে জড়ানোর চেষ্টা করছেন। পুলিশের কঠোর ভুমিকার কারণে রাষ্ট্রের মূল্যবান খনিজ সম্পদ লুটপাটের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুলিশের কঠোর ভুমিকার কারণে দীর্ঘদিন যাবত প্রভাবশালী বালিপাথর খেকোদের অবৈধ আয়-রোজগার বন্ধ। সম্প্রতি প্রভাবশালী চক্রের সদস্যরা ভুমি মন্ত্রণালয়ে মসজিদে মাটি ভরাটের জন্য আবেদন করে অবৈধভাবে বালি পাথর উত্তোলনের ব্যবসা করতে চায়। পুলিশ তাদের কাছে বালি উত্তোলনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশনা দেখতে চাইলে তারা কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। এর পর থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। চক্রটি সরকারের গুরুত্বপূর্ন দপ্তরে নামে বেনামে অভিযোগ দিয়ে পুলিশকে হয়রানি ও ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে। পুলিশ রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করছে।

 

যারা বিভিন্ন দপ্তরে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা পুলিশের কাছ থেকে অন্যায় সুবিধা না পেয়ে এসব করছেন। এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আবু সাঈদ জানান, সদর থানার ওসি ও এস আইয়ের বিরোদ্ধে যেসব অভিযোগ বিভিন্ন অফিসে দপ্তরে করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এগুলো প্রমাণিত হয়নি। একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালি পাথর উত্তোলন না করতে পেরে একের পর এক অভিযোগ দায়ের করছে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর