সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
খুলনার কপিলমুনিতে আরব আমিরাত সরকারের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ গাজীপুর-৩ আসনে ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা রংপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৬৮ লিটার চোলাই মদ জব্দ গ্রেফতার-১ বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে উন্মোচিত হলো ১২০x জুমসহ অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি আয়োজিত হলো নারী নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন বিষয়ে সংলাপ রোজার আগে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে সোনাতলায়, মাত্র ৫০ দিনে কুরআনের হাফেজ হলো ১০ বছরের আব্দুর রহমান সংস্কার চান তাহলে উত্তরটা “হ্যাঁ” বলতে হবে: রিজওয়ানা হাসান শ্রীপুরে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের যাত্রা বিরতি ও টিকিট বিক্রয় কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন গাজীপুর-৩ আসনে জোটের প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ, আলোচনায় ‘বহিরাগত’ ইস্যু

বিশ্ব প্রবীণ দিবস: অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার প্রবীণদের সম্মান, গ্রামে হাশেম আলীর চোখে আনন্দাশ্রু

জনি হাসান / ৯০ টাইম ভিউ
আপডেট : বুধবার, অক্টোবর ১, ২০২৫, ৬:৪০ অপরাহ্ণ

জনি হাসান 

আজ ১ অক্টোবর, বিশ্ব প্রবীণ দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও দিনটি পালিত হচ্ছে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রবীণদের স্থিতিস্থাপকতা’ বা এমন কোনো প্রাসঙ্গিক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে। কিন্তু এই দিবসের মূল আবেদনটি নিহিত আছে সমাজের ভিত্তি—আমাদের প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার মধ্যে। দেশের প্রতিটি কোণে, শহরে-গ্রামে, প্রবীণদের প্রতি নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব ও শ্রদ্ধার বার্তা পৌঁছে দিতে পালিত হচ্ছে নানা আয়োজন।

এরই মধ্যে একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ চিত্র ধরা পড়ল প্রত্যন্ত গ্রাম (স্থানের নাম—যা আপনি গল্পের জন্য ধরে নিতে পারেন) এ। এক বৃদ্ধ, যার নাম হাশেম আলী, গ্রামের তরুণ প্রজন্ম ও শিশুদের ভালোবাসা ও সম্মানে সিক্ত হয়ে যেন খুঁজে নিলেন জীবনের নতুন অর্থ। তাঁর মতো হাজারো প্রবীণ এই সমাজে আজও নিঃসঙ্গতা ও অবহেলার সঙ্গে লড়াই করছেন। আজকের এই আয়োজন যেন তাদের প্রতি সমাজের এক সম্মিলিত ভালোবাসার প্রকাশ।

এক জীবনের সংগ্রাম, এক গ্রামের ইতিহাস

গ্রামের একপ্রান্তে ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরে থাকেন প্রায় আশি বছর বয়সী হাশেম আলী। সময়ের সাথে সাথে চুলগুলো হয়েছে ধবধবে সাদা, চোখের দৃষ্টিও হয়েছে ঝাপসা। তবুও তিনি গ্রামের সকলের কাছে এক ভরসার প্রতীক। গ্রামের মানুষজন মনে করেন, হাশেম আলীর স্মৃতিতে লুকিয়ে আছে যেন গোটা গ্রামের ইতিহাস। সুখ-দুঃখ, উত্থান-পতনের প্রতিটি সাক্ষী তিনি।

তাঁর জীবন কেটেছে কঠোর পরিশ্রমে। একসময় ছিলেন তিনি সফল জমির চাষি, দিন-রাত রোদে-ঘামে কাজ করে মানুষ করেছেন সন্তানদের। কিন্তু কালের নিয়মে, সেই সন্তানেরা আজ দূরে—কেউ ব্যস্ত শহরের চাকরিতে, কেউবা পাড়ি জমিয়েছেন সুদূর বিদেশে। বার্ধক্যজনিত নিঃসঙ্গতা তাঁকে গ্রাস করলেও, গ্রামের মানুষ তাকে একা থাকতে দেয় না। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তাঁর অভিজ্ঞতার গল্প শুনতে ভিড় করে।

নীরব আয়োজন, প্রবীণের চোখে আনন্দাশ্রু

আজ সকাল থেকেই গ্রামের তরুণরা নীরবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল একটি বিশেষ আয়োজনের। বিশ্ব প্রবীণ দিবসটিকে তারা শুধু একটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে না দেখে, প্রবীণদের সম্মান জানানোর এক শ্রেষ্ঠ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

বিকেলে গ্রামের স্কুল মাঠে আয়োজিত হলো এক অনাড়ম্বর কিন্তু গভীর তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা। প্রবীণদের সম্মান জানাতে গ্রামের কচি হাতের শিশুরা ফুল নিয়ে ছুটে এলো। তাদের গান, কবিতা আবৃত্তি এবং নাচের মাধ্যমে তারা প্রবীণদের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা প্রদর্শন করে।

সভার প্রধান অতিথি হিসেবে বসানো হলো প্রবীণ হাশেম আলীকে। তাঁকে ঘিরে থাকা শিশু-কিশোর ও তরুণদের ভিড় যেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতার সেতু নির্মাণ করল।

আমরা বোঝা নই, সমাজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার”: হাশেম আলী

উপস্থিত সবার সামনে দাঁড়িয়ে যখন হাশেম আলী কথা বলতে শুরু করলেন, তখন তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল আবেগে আপ্লুত। তিনি তাঁর ভাষণে প্রবীণদের মনের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আমাদের বয়স বেড়েছে, শরীর দুর্বল—তাতে কী? মনে এখনো স্বপ্ন বেঁচে আছে। প্রবীণ মানে বোঝা নয়। আমরা চাই তোমাদের পাশে থাকতে, আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে সমাজকে গড়তে। এক জীবনে যা শিখেছি, তা তোমাদের দিতে চাই। শুধু চাই, তোমরা আমাদের সম্মান দাও, কথা শোনো, আর অবহেলা কোরো না।”

এই মর্মস্পর্শী কথাগুলো বলার সময় হাশেম আলীর চোখে পানি জমে ওঠে, তাঁর কণ্ঠ কেঁপে ওঠে। উপস্থিত জনতা, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, বিপুল করতালি দিয়ে তাঁর বক্তব্যকে স্বাগত জানায়। গ্রামের বাচ্চারা মুহূর্তেই তাঁর চারপাশে ভিড় করে, যেন এই দাদুর কাছে গল্প শোনার আরও এক নতুন সুযোগ তারা পেয়েছে। এই দৃশ্য উপস্থিত সকলের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতামত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. (কাল্পনিক নাম, যেমন: ক. খ. গ.) বলেন, “প্রবীণ দিবস একটি প্রতীকি দিন হলেও, এর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রবীণরা কেবল অতীতের স্মৃতি নন, তারা আমাদের সমাজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার এবং জীবন্ত পাঠশালা। তাঁদেরকে বিচ্ছিন্ন করে নয়, সমাজের মূল স্রোতের অংশ হিসেবে রাখা জরুরি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “দেশের জনসংখ্যায় প্রবীণদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর জন্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সমাজ ও পরিবারের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” (এখানে ড. ক. খ. গ.-এর আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ যোগ করতে হবে, যা লেখার দৈর্ঘ্য বাড়াবে)।

শেকরকে ধরে রাখার অঙ্গীকার

দিবসের শেষে হাশেম আলী যখন তাঁর উঠোনে বসে আকাশের দিকে তাকালেন, তখন তাঁর মুখে ছিল এক স্বর্গীয় প্রশান্তি। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবলেন, “আজকের দিনটা আমার জীবনের সেরা দিনগুলোর একটি। হয়তো এভাবে সবাই যদি প্রবীণদের মনে রাখে, তাহলে আর কোনো বৃদ্ধকে একা হতে হবে না।”

গ্রামের তরুণদের এই ছোট উদ্যোগটি সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষণীয় বার্তা বহন করে আনল। প্রবীণদের যত্ন নেওয়া, ভালোবাসা দেওয়া এবং মর্যাদা দেওয়া মানেই নিজেদের শেকড়কে ধরে রাখা। এই আন্তঃপ্রজন্ম বন্ধন সুদৃঢ় করার মাধ্যমেই একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

এই উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবামূলক সংগঠনগুলো প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির ও বিনামূল্যে আইনি পরামর্শের ব্যবস্থা করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর