শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, নিজস্ব প্রতিবেদক
ভাওয়াল বীর শহীদ আহসান উল্লাহ এমপি, মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই রাজনীতিক জাতীয় রাজনীতিতেও
নিজের সুদৃঢ় প্রভাব রেখেছেন অসামান্য যোগ্যতাবলে। তিনি তাঁর নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।
শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাষ্টার (এমপি'র) ১৯'তম শাহাদাৎ বার্ষীকিতে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন। জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক, মাতৃজগত টিভি'র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (বি,সি,পি) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ ক্রাইম সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, শ্রীপুর সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা, বাংলাদেশ জাতির পিতা পরিষদ (কেন্দ্রীয় কমেটির) সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতির পিতা পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি, খান সেলিম রহমান।
শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাষ্টার (এমপি'র) ১৯'তম শাহাদাৎ বার্ষীকিতে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে, খান সেলিম রহমান বলেন।
সর্বশ্রেষ্ঠ বাংঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো তিনিও বুকের রক্ত দিয়ে গণমানুষের ভালোবাসার ঋণ শোধ করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বলা হয় দুনিয়ার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাংঙ্গালি।
মহামতি লেনিনের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। মহাত্মা গান্ধী সারা দুনিয়ায় নন্দিত
আদর্শবাদী নেতা হিসেবে। আমরা জানি আব্রাহাম লিংকন, জর্জ ওয়াশিংটন, চার্চিল,
মাও সে-তুং, হো চি মিনের নাম। জওহরলাল নেহরু, জামাল নাসের, মার্টিন লুথার
কিং, মার্শাল টিটো, সুকর্ণ, ফিদেল কাস্ত্রো ও নেলসন ম্যান্ডেলা বিশ্বনেতাদের তালিকায়
নিজেদের নাম যুক্ত করেছেন অনন্য কৃতিত্ববলে। বঙ্গবন্ধু রাজনীতিকে মাটি ও মানুষের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। তিনিই ছিলেন প্রথম জাতীয় নেতা, যাঁকে তাঁর অনুসারীরা স্যার কিংবা হুজুর, ভাই বলে অভিহিত করতেন।
খান সেলিম রহমান, আরে বলেন।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (এমপি) তাঁর নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অনুসরণ করেছেন মনেপ্রাণে। নিজের রাজনীতির ভিত্তি ভেবেছেন কৃষক, শ্রমিক সহ সর্বস্তরের মানুষকে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করার জন্যই আহসান উল্লাহ মাস্টার মাটি ও মানুষের নেতা হয়ে উঠেছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
ভাওয়াল বীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (এমপি) ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁকে খাঁটি সোনা হিসেবে অভিহিত করা
যায়। তিনি গাজীপুরকে নিয়ে গর্ব করতেন।
গাজীপুরের মানুষকে নিয়ে তাঁর গর্বের শেষ ছিল না। সবকিছুর আগে সাধারণ
মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ছিল আকাশচুম্বী।
বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি মূল্যায়ন করতেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত
হওয়ার ভরসা হিসেবে।
খান সেলিম রহমান আরো, বলেন।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (এমপি) বলতেন, বঙ্গবন্ধু নেই, তাঁর আদর্শকে
উজ্জীবিত করতে হলে প্রতিটি ঘরে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর
লাখ লাখ সৈনিক তৈরি করতে হবে। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শহীদ বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী, কামারুজ্জামানের মতো নেতা এ দেশের রাজনীতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শিশু শেখ রাসেল সহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকলকে হত্যাকাণ্ডের পর শুরু হয় নষ্ট রাজনীতির চর্চা। সেই নষ্ট রাজনীতির দুর্গন্ধ থেকে যাঁরা নিজেকে মুক্ত
রাখার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন, তাঁদের একজন শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (এমপি)।
মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠা তথা রাজনীতির নষ্ট ধারাকে ঠেকাতে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে স্মরণ, তাঁকে নিয়ে গবেষণা ও চর্চার বিষয়টি প্রাসঙ্গিকতার দাবিদার। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তথ্য মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের স্বপ্নপূরণে আদর্শবাদের রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রতিটি ঘর যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। এ জন্য আমাদের চাই, ভাওয়াল বীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (এমপি) উনার মতো চাই।
খান সেলিম রহমান আরো বলেন।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের, আদর্শের অসংখ্যক সৈনিক, যাঁরা সাহস ভরে উচ্চারণ করবেন, ন্যায়ের সঙ্গে অন্যায়ের লড়াই এক চিরন্তন নিয়ম। অন্যায়ের ঘৃণ্য কীটদের
প্রতিহত করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হয়,
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (এমপি) সে পথ দেখিয়েছেন।
২০০৪ সালের ০৭'ই মে, আততায়ীদের কালো হাত দৈহিকভাবে আহসান
উল্লাহ মাস্টারকে কেড়ে নিলেও জনগণের হৃদয় রাজ্যে তাঁর যে অবস্থান, তা এতটুকু
কেড়ে নিতে পারে নি। গাজীপুরে তাঁর উপস্থিতি সততই অনুভূত হয়।
ভাওয়াল বীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (এমপি'র) ১৯'তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে জানাই, বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।