প্রতিবেদক মোঃ রাকিব হোসেন সৌদি আরব
ফুটবল মাঠের সবুজ ঘাসে তিনি যখন দৌড়ান, তখন কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে মাঠের সেই বিধ্বংসী মেজাজের বাইরেও যে তাঁর একটি সংবেদনশীল ও কৌতূহলী মন রয়েছে, তার প্রমাণ মিলল সৌদি আরবের তপ্ত মরুভূমিতে। ২০২৩ সালের শুরুতে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সৌদি আরবের স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেকে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। এবার জানা গেল এক চমকপ্রদ তথ্য— স্থানীয় সংস্কৃতি বুঝতে এবং সতীর্থদের প্রতি সংহতি জানাতে গত রমজানে টানা দুদিন রোজা রেখেছিলেন সিআর সেভেন।
সতীর্থের চোখে রোনালদোর ‘রোজা’র অভিজ্ঞতা
সম্প্রতি থামনিয়াহ স্পোর্টস-এর সঙ্গে এক আলাপকালে রোনালদোর সাবেক আল নাসর সতীর্থ শায়ে শারাহিলি এই নেপথ্য গল্পটি সামনে আনেন। শারাহিলি জানান, সৌদি প্রো লিগে খেলা আরব ও বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য রমজান মাসটি ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার। আরব খেলোয়াড়রা ছোটবেলা থেকেই রোজা রেখে খেলতে অভ্যস্ত হলেও, বিদেশিদের জন্য এটি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
শারাহিলির ভাষায়, “রমজানে খেলা সহজ নয়। তবে আরব খেলোয়াড়রা এতে অভ্যস্ত। বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য খাবার, ঘুম ও দৈনন্দিন রুটিন ঠিক রাখা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।”
কৌতূহল ও সম্মান থেকে নেওয়া উদ্যোগ
শারাহিলি জানান, মুসলমান না হয়েও স্রেফ ব্যক্তিগত কৌতূহল এবং সতীর্থরা ঠিক কী ধরণের ত্যাগের মধ্য দিয়ে যান, তা উপলব্ধি করতে রোনালদো গত রমজানে দুদিন রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে কঠোর অনুশীলনের মাঝে রোজা রাখা যে কতটা শারীরিক ও মানসিক শক্তির পরীক্ষা, তা তিনি দ্রুতই অনুভব করেন। ফুটবলারের ব্যস্ত জীবনে রোজা রাখা এবং উচ্চশক্তির পারফরম্যান্স ধরে রাখা যে মোটেও সহজ নয়, তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন এই বিশ্বসেরা তারকা।
বৈশ্বিক আইকন যখন স্থানীয় সংস্কৃতিতে বিলীন
সৌদিতে আসার পর থেকেই রোনালদোর প্রতিটি পদক্ষেপ প্রশংসিত হচ্ছে। কখনো তাকে ঐতিহ্যবাহী সৌদি পোশাক ‘জোব্বা’ পরে উৎসবে অংশ নিতে দেখা গেছে, আবার কখনো বা আরবী ভাষায় শুভেচ্ছা বিনিময় করে জয় করেছেন ভক্তদের মন।
সৌদি ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, রোনালদোর এই রোজা রাখার চেষ্টা কেবল কৌতূহল নয়, বরং এটি তাঁর অসাধারণ লিডারশিপ বা নেতৃত্বগুণের বহিঃপ্রকাশ। একজন অধিনায়ক হিসেবে তাঁর দলের সিংহভাগ সতীর্থ যখন রোজাদার থাকেন, তখন তাদের মনের অবস্থা বুঝতে তাঁর এই উদ্যোগ এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সেও আল নাসরের জার্সিতে মাঠ মাতাচ্ছেন এই কিংবদন্তি। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের এমন উদারতা তাঁকে মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবল প্রেমীদের কাছে এক বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।