সুমন গাজী।
গাজীপুরের শ্রীপুরে তৃতীয় লিঙ্গের এক ভূমিহীন পরিবারকে সরকারি খাস জমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে মারধোরের অভিযোগ স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এ সময় তাদের মারধোরে পাঁচজন আহত হয়।
মঙ্গলবার( ২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড় টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের গিলাশ্বহর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী তৃতীয় লিঙ্গের আলামিন হোসেন জয়া বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা উপজেলার গিলাশ্বহর গ্রামের: শাওন(২৬) মো:নিজাম (৫০), কামরুল(৩৫),সাদিকুল(৪০)। থানায় দেয়া অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গিলাশ্বহর গ্রামের ভূমিহীন মৃত হেলাল উদ্দিনের তৃতীয় লিঙ্গের সন্তান আল-আমিন হোসেন জয়া ভূমিহীন হিসেবে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত পেতে একটি আবেদন করেন। এবং ওই জমিতে একটি ঘর তোলেন। ঘর তোলার সময় ওই অভিযুক্তরা কয়েক দফায় টাকা দাবি করেন। এবং বিভিন্ন সময় জয়ার কাছ থেকে অভিযুক্তরা টাকা নিয়েছেন। গত কয়েকদিন যাবত পুনরায় ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছে অভিযুক্তরা। এবং টাকা না দিলে এখান থেকে উচ্ছেদ করে দিবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতাই তাদের দাবি কৃত টাকা না পাওয়ায় মঙ্গলবার দুপুর দেড় টার দিকে ভুমিহীন পরিবারকে মারধোর করে। এ সময় তাদের মারধোরে পাঁচ জন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন।
ভুক্তভোগী আল আমিনের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে অভিযুক্তদের বিভিন্ন হুমকি ও চাপের মুখে পড়ে আমাদের পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা সহ অভিযুক্তদের বিচারের দাবি করছি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত নিজামকে বলতে শোনা যাচ্ছে, এটা তো সরকারি খাস জমি না, এরা জোর করে এই জমি দখল করেছে। এদেরকে তো পিটাইছি মামলা তো একটা হবেই। কিন্তু ইচ্ছামত পিটাইতে পারলাম না।
শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি মো: আল মামুন বলেন, গিলাশ্বহর এলাকায় ১নং খাস খতিয়ানে কিছু জমি আছে। তৃতীয় লিঙ্গের আলামীন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে সাক্ষাৎ করলে ভুমিহীন বিবেচনায় তাকে কিছু জমি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং সেখানে একটি ঘর করার জন্য আলামীনকে মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখানে যদি কেউ চাঁদা দাবি করে অথবা তাদেরকে উচ্ছেদ করতে চায় তাহলে সেটা অন্যায়।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহ জামান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। একজন পুলিশ অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।