মাহমুদুল হাসান চন্দন
ভেড়ামারা উপজেলার পৌর শহরের মধ্যে ভালো এবং সুযোগ-সুবিধা উন্নত হওয়ায় দোকান ভাড়া অত্যধিক। বিশেষ করে, অন্যান্য বড় শহরে জায়গা বা লোকেশন অনুযায়ী দোকান ভাড়া বা সালামি (অগ্রিম) লাখ টাকা। এই উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক ছোট ব্যবসায়ী মূলধন হারিয়ে বা খরচ মেটাতে না পেরে বিপাকে পড়েন। শহরের দোকান ভাড়ার প্রধান কারণ জনবহুল, প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা, দোকানের চাহিদা বেশি, তাই ভাড়া চড়া।
দোকান মালিকেরা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে দেন। ভাড়াটের স্বার্থ দেখার কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
আজগর আলি নামে এক দোকান ব্যবসায়ীর সাথে আলাপকালে বললেন, দোকান চালুর পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভালো ভাবে ব্যবসা শুরুই করতে পারিনি। আগামী কয়েক মাসে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তাও নিশ্চিত নয়। এরই মধ্যে যেভাবে ভাড়া বাড়ানো হলো, তাতে ব্যবসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।
ভেড়ামারাতে মূল বাজারে সিংহভাগেরই এখানে নিজের আবাসন নেই। বেশিরভাগ সরকারি রেলওয়ের জমি লিজ নেওয়া। তাই কেউ ইচ্ছা করলেও বহুতল ভবন তৈরি করতে পারেনা। সেই সুযোগে রেলের কাছে জমি লিজ নেওয়া মালিকরা ইচ্ছে মতো দোকান ভাড়া আদায় করে থাকেন। ভেড়ামারা বাজারের কিছু পুরাতন নির্দিষ্ট দোকান মালিক বাদে প্রায়ই দেখা যায় দোকান ব্যবসায়ী পরিবর্তন হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরের জায়গায় ভাড়ার বিনিময়ে থাকা মানুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ। নতুন বছরের শুরু যত সম্ভাবনার বার্তায় বয়ে আনুক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভাড়াটেমাত্রেরই বুক ঢিপ ঢিপ করতে থাকে ডিসেম্বর এলেই। ব্যতিক্রম থাকলেও তার সংখ্যা নিতান্ত কম।
নির্ধারিত উপার্জনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আয়ের সঙ্গে সংগতি নেই। কিন্তু নাগরিক জীবনের এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে খুব একটা তৎপরতা চোখে পড়ে না। ভাড়াটেরা নিজেরাও সংগঠিত নন।