মাহমুদুল হাসান চন্দন
ভেড়ামারা উপজেলার ভেতরে খেলার মাঠ বিভিন্ন অজুহাতে দখল করা হচ্ছে। বাড়িঘর তৈরীর কারণে মাঠ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সেই সাথে দখলের পাঁয়তারা চলছে। ফলে এলাকার শিশু-কিশোরেরা নির্বিঘ্নে খেলাধুলা করতে পারে না।
এসব নিয়ে নানা সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের কোনো ধরনের উদ্যোগ দেখা যায়নি। এসব খেলার মাঠ দখল করে বাড়তি আয় করেন মূলত সমাজের ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা।
যেভাবে দখল হচ্ছে খেলার মাঠ। ভেড়ামারা পৌরসভা সামনে থেকে লালনশাহ ব্রীজ যেতে ভেড়ামারা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের সড়কের পাশে ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এর খেলার মাঠ। বিভিন্ন দখলদার চক্রের ছোবলে ভেড়ামারার মানচিত্র থেকে এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে মাঠ।
খেলাধুলার জন্য মাঠ থাকলেও তা প্রভাবশালীদের বাণিজ্যিক স্থাপনায় রূপ নিচ্ছে। মাঠটি দখল করে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। শুক্রবার সরেজমিন দেখা গেছে, মাঠের মধ্যে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে মাঠের ভিতরে চলে আসছে।
দখলে খেলার মাঠ, ওরা এখন যাবে কোথায়? এই মাঠটাই আমাদের নিঃশ্বাস, আমাদের জগৎ। এটা কেড়ে নিলে আমরা কোথায় যাবো?— কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই নিজের আকুতি জানাচ্ছিল তরুণ খেলোয়াড়রা। তার মতো শত শত শিশু-কিশোরের স্বপ্ন আর কৈশোরের একমাত্র ঠিকানা এই খেলার মাঠটি আজ প্রভাবশালীদের দখলে যাওয়ার মুখে।
মাঠের নিয়মিত খেলোয়াড়রা বলেন, আমরা খেলাধুলা করে সুস্থভাবে বাঁচতে চাই। মাঠ না থাকলে তরুণরা মাদকের মতো সর্বনাশা পথে পা বাড়াতে পারে। আমরা আমাদের খেলার অধিকার ফেরত চাই।
এলাকাবাসী বলেন, আমাদের চোখের সামনে এই মাঠ বেড়ে উঠেছে। হঠাৎ করে কেউ এসে দখল করে নেবে, এটা আমরা কিছুতেই হতে দেব না।
তরুণদের এই আর্তনাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও। ভেড়ামারা উপজেলা জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সদস্য সচিব মোঃ শাজাহান আলী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের প্রশ্ন। এই মাঠ রক্ষায় আমরা এলাকাবাসীর পাশে আছি।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খেলার মাঠ দখলের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আমরা অবশ্যই খেলার মাঠটি দখলমুক্ত করে তরুণদের জন্য উন্মুক্ত রাখব।
ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার বলেন, আমরা ইতিমধ্যে জমি মেপেছি কয়েকটি জায়গায় বাড়ি-ঘর স্কুলের জমির ভেতরে ঢুকে পড়েছে। তাই সেগুলো ভেঙে দিয়ে বাউন্ডারি করার জন্য ইঞ্জিনিয়ারকে বলেছি।