সোহেল মিয়া,দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ):
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় উৎপাদিত শবজি মুলার দাম কম হওয়ায় আর্থিক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। যার ফলে জমির মুলা দিয়ে জমিতেই বাঁধ দিতে দেখা গেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় এবার ব্যাপকভাবে মুলা চাষ হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মুলার ফলনও হয়েছে ভালো। সে অনুযায়ী দাম না পেয়ে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত মুলা জমিতেই নষ্ট করে দিচ্ছেন। উপজেলা বাংলাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে মুলা জমিতেই নষ্ট করার এমন দৃশ্য। চাষাবাদ খরচ না ওঠায় অনেকের জমিতেই পড়ে আছে মুলা। সবজি চাষিদের কেউ কেউ জমিতে চাষ করা মুলা দিয়ে জমির বাঁধ দিচ্ছেন, কেউ আবার মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন তাদের জমির ফলন্ত মুলা। মুলা বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি হয়তো উঠবেনা সেই আশংকায় মুলাচাষীরা জমিতেই নষ্ট করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার অন্যান্য গ্রামেও একই অবস্থা সবজি চাষিদের।
উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মুলাচাষী সুন্দর আলী (৩৫) কৃষক জানান,তিন একর জমিতে মুলাচাষ করে বিপাকে পড়েছেন তিনি। মুলা উঠিয়ে তা বাজারে বিক্রি করে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যুগানোর ও ব্যবস্থা না থাকায় মুলা দিয়ে জমিতে বাঁধ দিয়েছেন।
অধিক লাভের আশায় জমিতে মুলা চাষ করে বাজার দর কম থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
এই এলাকার আরো কয়েকজন মুলাচাষী জানান,আগাম উত্তোলনের পর খুচরা বাজারে ৪০/৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৪থেকে ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে মুলা। মুজুরি খরচ না ওঠার কারণে আর্থিক ভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। অপরদিকে, উপজেলার বাংলাবাজার হাটে শবজি আড়তে কম দামেই কৃষকদের কাছ থেকে মুলা কিনছেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাবাজারের আড়ৎদার গিয়াস উদ্দিন জানান, বর্তমানে মুলার দাম কমে যাওয়ায় শহরের ব্যাবসায়ীরা মুলা কেনার আগ্রহ হারিয়েছেন। বাংলাবাজার এলাকা থেকে মুলাসহ সব ধরনের সবজি বিক্রি করা হয় সিলেটের আড়ৎদারদের কাছে। সিলেটের আড়ৎদাররা বর্তমানে সর্বোচ্চ মৌন প্রতি ৩শ থেকে ৩৫০ টাকা দরে মুলা ক্রয় করেন,যার কারনে এলাকার ছোট -বড় ব্যবসায়ীদের কেউ মূলা কিনতে আগ্রহী নয়। শহরের বাজারগুলোতে মুলার দাম কম থাকায় স্থানীয় বাজারে ২ শ থেকে ২শ ৫০ টাকা দরে মুলা বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেনা বলে মুলা নিজ নিজ ক্ষেতেই নষ্ট করে দিচ্ছে।
বাংলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসাইন জানান,উপজেলার প্রায় সব এলাকা থেকে কম বেশি মুলাসহ সব ধরনের সবজি বাংলাবাজারে আসে। তবে সবচেয়ে বেশি মুলা চাষাবাদ হয়েছে বাংলাবাজার ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নের বেশ কয়েক গ্রামের কৃষকরা মুলা চাষ করে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ চাষে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে তিনি জানান।
দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি অফিসার শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, মুলা উত্তোলনের প্রথম দিকে দাম বেশি ছিল। এবং কৃষকরা তখন অধিক হারে টাকা পেয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে মুলাসহ অন্যান্য শবজির সরবরাহ বেশি থাকায় মুলার দাম কমেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় মুলা চাষের জমির পরিমান জানতে চাইলে তিনি জানান,এই উপজেলায় কত হেক্টর জমিতে মুলা চাষ হয়েছে তা জানা নেই। মুলা চাষের হিসেবটা বেশি প্রয়োজন হয়না বলে তা জানা হয়নি। আমরা প্রতিবছর কৃষক ও সবজি চাষিদের নিয়ে দিকনির্দেশনা মূলক সভা করে পরামর্শ দেয় কিভাবে কৃষকরা সবজি চাষ করে লাভবান হতে পারেন।