গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ):
বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ছাত্রদল কেন্দ্র একদিনের কর্মসূচী অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী ছাত্র, দেশ প্রেমিক শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রহনপুর ইউসুফ আলি সরকারি কলেজ ছাত্রদল শাখার উদ্যোগে মৌন মিছিল ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় কলেজ ক্যাম্পাসে এ মৌন মিছিল ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ছাত্রদল নেতা সাংবাদিক আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল নেতা মাহবুব, হিমেল সহ ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা।
আজিজুল হকের বলেন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে বেধড়ক পিটিয়েছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। মারধরের একপর্যায়ে আবরার বমি করে দেন, প্রস্রাবও করে ফেলেন। পরে তাকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে পরিষ্কার করে এনে পোশাক বদলে ফের মারধর করা হয়। কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলা আবরার ইঙ্গিতে তাকে প্রাণে বাঁচিয়ে দিতে বারবার মিনতি করলেও তাতে কান দেননি বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। শেষ পর্যন্ত আবরারকে মেরে ফেলার পরই ক্ষান্ত হন তারা।
ছাত্রনেতা আরো বলেন, আবরার ফাহাদকে হত্যার এমন নৃশংস বর্ণনা উঠে এসেছে পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটে। চার্জশিটে আবরার হত্যার মূলহোতা এবং মারধরের ঘটনার সূচনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর রহমান ওরফে মিজানকে। তিনি আবরারের রুমমেট ছিলেন। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪ অক্টোবরের আগের কোনো একদিন তিনি এজাহারভুক্ত আরেক আসামি মেহেদী হাসান রবিনকে জানান, আবরারকে তার শিবির বলে সন্দেহ হয়। এরই প্রেক্ষিতে রবিন ‘এসবিএইচএসএল ১৫’ ও ‘এসবিএইচএসএল ১৬’ গ্রুপের সবাইকে ফেসবুকে মেসেজ দেন এবং ৪ অক্টোবর রবিন ও মুন্নার নেতৃত্বে অমিত সাহা, সকাল, আকাশ, তাবাখখারুল, মনির, জিয়নসহ অন্য আসামিদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। ওই সময় আবরার গ্রামের বাড়িতে থাকায় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পরদিন আসামি মনিরের নেতৃত্বে তোহা, আকাশ, মাজেদ, মোরশেদ, মোয়াজসহ অন্যরা গেস্ট রুমে আবরারকে পেটাবে।
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা পিটিয়ে হত্যা করে।
ভারত- বাংলাদেশের কিছু চুক্তির প্রতিবাদ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলো।
তারই স্মরণে ও নিরাপদ মুক্তবুদ্ধি চর্চার গনতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের দাবিতে এ মৌন মিছিল ও স্মরণ সভা পালিত হয়।