মোঃ রেজাউল হক কুড়িগ্রাম
সমকালের রাজারহাট প্রতিনিধি ও রাজারহাট প্রেসকাব সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে হত্যার হুমকির ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি। সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা।
জানা গেছে,শুক্রবার রাত ১২টার দিকে বাজারহাট বাজারের থানা মোড়ে বাদল চন্দ্রের কসমেটিকের দোকানে সমকালের প্রতিনিধি ও রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ কেনাকাটা করার সময় তাকে দেখে উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক আনিছুর রহমানের ছেলে সোহেল আনিছ অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে। এসময় তিনি সেখান থেকে সরে গিয়ে পাশে আব্দুর রশিদের ওষুধের ফার্মেসিতে ওষুধ ক্রয়ের জন্য আসেন। সোহেল আনিছও তার পিছুপিছু সেখানে আসে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ সহ বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদান করতে থাকে। সাংবাদিক আসাদ তাকে হুমকীর কারন জানতে চেয়ে বিষয়টি মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করার সময় সোহেল আনিছ উত্তেজিত হয়ে তার হাত থেকে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে এবং হুমকি দেয় যে,বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সে রাজারহাট প্রেসক্লাব দখলে নিয়ে সে নিজেই সভাপতি হবে। একপর্যায়ে তার পিতার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ উঠানো না হলে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে চলে যায়।
সাংবাদিক আসাদ বলেন,আমার ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম উপজেলার পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী পদে চাকুরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং উচ্চ আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও উক্ত মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি ও রাজারহাট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আনিছুর রহমান দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অফিস সহকারীর পদ ছেড়ে দিয়ে সেই পদে নতুন নিয়োগ দিয়ে টাকার ভাগ নেয়ার প্রস্তাব দেন। আরিফুল তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিজ্ঞ আদালতের রায় অমান্য করে এমপিও রেজুলেশন প্রদানে তালবাহানা করে আসছেন। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে আরিফুল মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহ বিভিন্ন দপ্তরে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি এবং মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এনিয়ে গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর একাধিক সংবাদ মাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,এঘটনায় জেলা বিএনপি’র সদস্য ফিরোজ রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।