শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধ
শারদীয় দুর্গাপূজা এখন শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি পরিণত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসবে। এই বৃহত্তম উৎসবে যেমন থাকে বিপুল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, তেমনি এটি ছড়িয়ে দেয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য বার্তা। সেই আনন্দের অংশীদার হতে এবং সমাজের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকাশ করতে গাজীপুরের শ্রীপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে হিন্দু সম্প্রদায় এবং তাদের শিশু-কিশোরদের মাঝে বস্ত্র ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল বাচ্চু মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন।
শ্রীপুর বাজার সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা পূজা মন্দিরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মন্দিরের সভাপতি হরি নারায়ন চৌহান এবং এটি পরিচালনা করেন শ্রী দুলাল চৌহান। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, সদস্য সচিব খাইরুল কবির মন্ডল আজাদ, সাবেক সভাপতি সিরাজ উদ্দিন কাইয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরকার, সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারি, প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম মাহফুল হাসান হান্নান, বিএনপি নেতা মোসলেহ উদ্দিন মৃধা, এড আহসান কবির, বিল্লাল হোসেন সহ বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্টজনেরা।
বস্ত্র হাতে পেয়ে পূজারীর সারিতে দাঁড়ানো রেখা রবি দাস উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, “এবার পূজায় নতুন শাড়ি পেয়ে মনে হচ্ছে দেবীর আশীর্বাদ নেমে এসেছে। পূজার আনন্দে আমরাও এবার শামিল হতে পারব।”
অন্যদিকে বৃদ্ধ ধীরেন্দ চন্দ্র বর্মন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বলেন, “এবারই প্রথম পূজা মণ্ডপে আমরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে এমন উপহার পেলাম। উৎসব মানে শুধু মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা নয়, আনন্দ ভাগাভাগি করা। ডা. বাচ্চু আমাদের সেই আনন্দে শরিক করলেন।”
বস্ত্র বিতরণের সময় ডাঃ রফিকুল বাচ্চু বলেন, এই কর্মসূচি রাজনীতি ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই একই সমাজের মানুষ। তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ মূলত অসহায় মানুষের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। বাংলাদেশে দুর্গাপূজা একদিকে যেমন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, অন্যদিকে তেমনি সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। তারেক রহমানের এমন উদ্যোগ শুধু দরিদ্র মানুষের দুঃখ লাঘবই করে না, বরং সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সহাবস্থানকে দৃঢ় করে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়— মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, রাজনৈতিক নেতাদের মানবিক পদক্ষেপ উৎসবকে আরও অর্থবহ করে তোলবে এবং দুর্গাপূজার মতো উৎসব হয়ে উঠুক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন, যেখানে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া হয় সবার মধ্যে।