বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
গোমস্তাপুরে রহনপুর পৌরসভায় আগুনে পুড়ে যাওয়া পরিবারের মাঝে সহায়তা প্রদান রংপুরে স্কুলছাত্রীকে র্ধষণ র‌্যাবরে হাতে যুবক গ্রফেতার গাজীপুর জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত গাজীপুরে ঝুট গুদামে আগুন এক ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে  গণভোটে ‘হ্যা’র পক্ষে প্রচারনায় গাজীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর বাউবিতে “কর্মক্ষেত্রে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার” বিষয়ক প্রশিক্ষণ আল-আইনে মীরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউএই উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকসভা ও দোয়া মাহফিল শ্রীপুরে ‘গণভোট-২০২৬’ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের অবহিতকরণ সভা ও উন্মুক্ত আলোচনা ভেড়ামারায় দখলমুক্ত হচ্ছে না ফুটপাত, দুর্ভোগে পথচারীরা পাইকগাছায় ঋন পরিশোধ হলেও আমানতের চেক ফেরত না দিয়ে প্রতারনা: অতঃপর লিগ্যাল নোটিশ 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষের খোলা চিঠি

রিপোর্টারের নাম / ১৬১ টাইম ভিউ
আপডেট : শনিবার, অক্টোবর ৫, ২০২৪, ১:১৫ অপরাহ্ণ

 

আমার প্রাণপ্রিয় সন্তানতুল্য সাবেক ও স্নেহের বর্তমান শিক্ষার্থীরা, আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছো তোমরা? আশা করি ভালো আছো। আমি তোমাদের শিক্ষক, আমি মানসিকভাবে ভাল নেই। আজ আমি এই খোলা চিঠিতে কিছু কথা তোমাদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরতে চাই। কেন আমি মানসিকভাবে ভাল নেই। গত ৫ ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর দেশে শান্তি ও মুক্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। পরিবর্তনের হাওয়া বইছে সবখানে। এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখছি একটি নূতন বাংলাদেশ গড়ার। স্বপ্ন দেখছি ঘুরে দাঁড়ানোর। বিজয়ের এই মাহেন্দ্রক্ষণের অব্যবহিত পরে আমরা যখন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মত আমাদের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে নুতন রূপে গড়ার স্বপ্নজাল বুনছি, তখনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন তরুণ ছাত্র আমাকে ফোন দিয়ে আমাদের বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষককে পদত্যাগ করতে বলে, উল্লেখ্য তিনি এই বিদ্যালয়ের ছাত্র বা অভিভাবক নন। জানতে পেরেছি তার কাছে আমাদের সাবেক শিক্ষার্থীরা তোমরা অভিযোগ করেছো। তিনি আমার দুই সহকর্মীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ না করে বলেন, এই দুইজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে আপনি এদের পদত্যাগ করতে বলেন। তিনি বলেন, আপনাকে ২৪ ঘন্টা আল্টিমেটাম দিলাম। না হলে আপনারও পরবর্তীতে সমস্যা হবে।

কোনোরকম যাচাই-বাছাই ছাড়া, প্রমাণিত গুরুতর অভিযোগ ছাড়া কাউকে এভাবে পদত্যাগ করতে বলার এখতিয়ার অধ্যক্ষ হিসেবে আমার নেই। এমনকি অধ্যক্ষ হিসেবে আমি কাউকে বহিষ্কার করতে পারি না। তোমরা হয়তো সকলেই সেটা জানো। সুতরাং আমি তাদেরকে পদত্যাগ করতে না বলে আমাদের দু একজন সহকর্মীর মাধ্যমে সাবেক শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে আসল ঘটনা জানতে উদ্যত হই। তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ তোমাদের কাছে আছে তা জানার চেষ্টা করি। এবং আমার এখতিয়ারের ভেতর থেকে আমি আমার সকল সহকর্মী ও উল্লিখিত দুই সহকর্মীকে কয়েকটি বিষয়ে সতর্কীকরণ চিঠি ইস্যু করি। উক্ত ঘটনার কয়েকদিন পর বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে পত্রিকায় একটি নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে আমরা জানতে পারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের নিকট আমাদের স্কুলের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে একটি অভিযোগও জমা হয়েছে।

খবরটি আমার দৃষ্টিগোচর হওয়ামাত্রই বিদ্যালয়ের প্রবীণ সাবেক শিক্ষার্থী ও স্কুলের রিইউনিয়ন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জনাব আ ব ম আব্দুল মালেক, অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক বিদ্যালয়ে আসেন। একই দিনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় এর অনুরোধে জনাব মাওঃ সাইফুল্লাহ আজাদ সাহেবও এবিষয়ে প্রাথমিক খোঁজখবর নিতে আসেন। এবং উনারা দৃশ্যমান উল্লেখযোগ্য বড় ভুল খুঁজে পাননি। অতঃপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয়কে তদন্তের দায়িত্বভার দিয়েছেন বলে জানতে পারি। উক্ত তদন্তের শুনানির দিন ধার্য হয় ৮/৯/২৪ তারিখে। তোমাদের অভিযোগ পত্রের যে অনুলিপি আমরা সংগ্রহ করি সেখানে দেখতে পাই আমার বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। যা সব মিথ্যা। কোনো সহকর্মী আমার উপস্থিতিতে আমার সাথে কোনো ধরনের টাকা লেনদেন করেছে এই সাক্ষ্য দিতে পারবেনা। তবে আমার অগোচরে গর্ভানিং বডি কমিটির কারো সাথে কেউ কোনোরকম লেনদেন হয়েছে কিনা সেটিও আমার জানা নেই। আমার অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ স্বরূপ তোমরা কয়েকটি অভিযোগ দিয়েছো।

বিদ্যালয়ে ল্যাব অপারেটর হিসেবে যাকে নিযোগ দেয়া হয়েছে তার সার্টিফিকেট শতভাগ ভুয়া ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সাথে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো মিল নেই।

তদন্ত শুনানির দিন সার্টিফিকেট শতভাগ ভুয়া এবিষয়ে তোমাদের তেমন কোনো বক্তব্য ছিল না এবং আমার জানামতে এটি শতভাগ নির্ভেজাল সার্টিফিকেট। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সাথে শিক্ষাগত যোগ্যতার মিল না থাকার একটি যুক্তি তোমরা তুলে ধরেছো। এই নিযোগটি যখন দেয়া হয় তখন মাত্র কয়েকবছর হয়েছিল কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি সাবজেক্টটি এইচ এসসি পরীক্ষায় সবার জন্য চালু হয়েছিল। ফলে ল্যাব অপারেটর পদে সারাদেশে এই বিষয়সহ বিজ্ঞানবিভাগে পাশ করা আবেদনকারীর হার ছিল কম। আমার জানামতে, সেকারণেই সরকারি পরিপত্রে ছয়মাসের ট্রেনিং এর কথা উল্লেখ করা হয়। এটি সত্য যে, পরিপত্রের বিস্তারিত বিবরণ আমাদের নিয়োগে উল্লেখ ছিল না। সাধারণত প্রায়শই নিয়োগ বিজ্ঞষিতে বিস্তারিত বিবরণ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে উল্লেখ থাকে না, কিছু কিছু বিষয় উহ্য থাকে। কারণ পত্রিকায় নিযোগ বিজ্ঞপ্তির জন্য জায়গা পরিমাপ করে প্রতিষ্ঠানকে অর্থ ব্যয় করতে হয়। সেক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী শব্দদ্বয় যুক্ত করে দিলেই পূর্ণতা পায়। আমাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সময় আমরা পত্রিকাতে উল্লিখিত শব্দদ্বয় যোগ করেই পাঠাই কিন্তু জায়গা স্বল্পতায় বা ভুলভাবে ছাপা হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়।

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমাদের উদ্দেশ্যে বলি একটি নিয়োগে অনেকগুলো পর্যায়ে কাজ হয়। স্কুল পর্যায়, উপজেলা পর্যায়ে এভাবে ক্রমান্বয়ে উপর পর্যন্ত। একজন অধ্যক্ষ কেবল গর্ভানিং বডির নির্দেশে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেন মাত্র।এক্ষেত্রে আমিও সেটাই করেছি। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গর্ভানিং বডির ক্ষমতা কতটুকু সেটিও তোমাদের জানা থাকার কথা।

মাহফুজা খানম ও মোস্তাফিজুর রহমানের বিষয়ে যে অনৈতিক সুবিধা প্রদানের কথা তোমরা বলেছো সেখানে মূলতঃ

তাদের প্রতি গর্ভানিং বডির মানবিক আচরণ ও বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের বৃহৎ স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমাদের কলেজ শাখাটি এমপিও ভুক্তির আগে অনেকদিন শিক্ষকদের বিনা বেতনে কাজ করতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করা, তাদের লেখাপড়ার খোঁজ নেয়া, তাদের বইপত্র কিনে দেয়া এজাতীয় অনেক কাজ আমাদের করতে হয়েছে। এই সংগ্রাম ছিল দীর্ঘ এবং অনিশ্চয়তার। কারণ কেউ জানতো না কখন কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত হবে। মাহফুজা খানম মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন। এটি তার অধিকার। পক্ষান্তরে আমরা তাকে কোনো বেতনাদি পরিশোধ করতাম না। তার সন্তান পৃথিবীতে আসা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। আর্থিক অস্বচ্ছলতা তাকে রাতে ঘুমাতে দিত না। সন্তান জন্মদানের সময় কি হবে?

জন্ম পরবর্তী শিশুর পরিচর্যা খরচ, দুধ কেনার টাকা কিভাবে জোগাড় হবে? এই যখন তার চিন্তা, তখনই NTRCA নিয়োগে তার চাকরি হয়। মাহফুজা খানম অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষিকা, আমি তাকে জানি। আমি প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে কোনোরূপ বেতনাদি দিতে পারি না। তিনি আশাশুনি আল মাদানি দাখিল মাদ্রাসায় যোগদান করেন। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে গর্ভানিং বডির সদস্যরা তাকে ছাড়তে চায় না।

 

মোস্তাফিজুর রহমান একজন মানবিক শিক্ষক। তিনি কলেজ শাখার জন্য কতকিছু করেছে তা বিস্তারিত বলতে গেলে চিঠি অনেক লম্বা হয়ে যাবে। আমাকে যদি আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেয়া হয় তাহলে আমি তখন আরো বিস্তারিত বলবো। যদি ওই সময় ওনাদের বাদ দেয়া হত তাহলে আমার কলেজের এমপিওভুক্তি আটকে যেত। ঝুলে থাকতো আরো অনেকদিন। আরো শিক্ষক নিরুৎসাহিত হয়ে তাঁরাও প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতেন। কলেজ শাখা আজ অব্ধি আলোর মুখ না

 

ও দেখতে পারতো। সুতরাং সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে, মাহফুজা খানমের বিষয়টির ক্ষেত্রে মানবিক কারণে তাদেরকে

 

সামান্য সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একজন ভালো শিক্ষক একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ তা হয়তো তোমাদের বুঝিয়ে বলতে হবে না। কোনো একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করতে হলে অনেক লড়াই, অনেক সংগ্রামের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। কত প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত হতে কতকিছুর কৌশল অবলম্বন করে, তোমরা চোখ কান খোলা রেখে খোঁজ নিলে আশা করি জানতে পারবে। আমাদের কলেজ সে তুলনায় সব শর্ত পরিপূর্ণভাবে প্রতিপালন করেই এমপিওভুক্ত হতে পেরেছে এ নিশ্চয়তা কেবল আমি না, আমার সহকর্মী ও ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন সদস্যগণ ভালো বলতে পারবেন। ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে তোমরা শুনানির দিন প্রশ্ন তুলেছো। পতিত সরকারের নুতন নীতিমালা অনুযায়ী ভৎকালীন এমপির সুপারিশ ছাড়া সভাপতি নির্বাচনের কোনো সুযোগ আমার হাতে ছিল না। আর সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের নির্দেশনা ছাড়া, রেজুলেশন ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কিছুই অধ্যক্ষ একা করতে পারেন না। তোমরা বড় হয়েছো, দেশে বিদেশে নামকরা বহু প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আছ। তোমাদের পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা আছে বলে আমি মনে করি। তোমরা ভালো করেই জানো একটি প্রতিষ্ঠান কিভাবে চলে। আমি যখন যা করেছি প্রতিটি কাজ ম্যানিজিং কমিটির সাথে আলোচনা করে, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই করেছি। তবে হ্যাঁ, মানুষ হিসেবে আমার ত্রুটিবিচ্যুতি থাকতে পারে ও ভুলের উর্ধ্বে নই। তোমরা এসে আমার সাথে আলোচনা করো, আমি আমার ভুল শুধরে নিবো।কিন্তু আমি তো তোমাদের শিক্ষক। আমার প্রতি তোমাদের একান্ত ব্যক্তিগত আক্রোশ থাকার কথা না। তোমরা সবাই আমার সাবেক শিক্ষার্থী। তোমাদের ভেতর কেউ কেউ আমাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিপ্রায় নিয়ে আমার বাড়িতে মিষ্টি এবং টাকা নিয়ে গিয়েছো। আমি তাৎক্ষণিক ফিরিয়ে দিয়েছি। এটা কী আমার অপরাধ? বাবারা, আমি তেমন প্রকৃতির মানুষ নই। আমার এখতিয়ারে তো সবকিছু ছিল না। মানুষের রিজিক আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। একটি প্রতিষ্ঠানে সবার চাকরি হবে এমনটা ভাবাটা বোকামি। আমার যদি সুযোগ থাকতো আমার প্রতিটা কৃতি সাবেক শিক্ষার্থীদের তাদের স্ব স্ব যোগ্যতানুযায়ী চাকরি দেয়ার, আমি তা দিতাম। কিন্তু, সে যোগ্যতা আমার নেই। আমি মহান ভাগ্য বিধাতার কাছে তোমাদের মঙ্গলের জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করতে পারি। আর আমি সেটাই করি সর্বক্ষণ। অথচ দেখো, তদন্ত শুনানির দিন আমাকে কিভাবে হেনস্তার শিকার হতে হল। তোমাদের হাজারটা যুক্তি থাকতে পারে, কিন্তু এভাবে শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের সামনে আমার দিকে তেড়ে আসতে উদ্যত হলো অথচ তোমরা আমারই শিক্ষার্থী। আমি সেদিন থেকে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারিনি। ওখানে আমার সরাসরি শিক্ষার্থী নয় তারাও ছিল অথচ তারা কতটা মার্জিত। শিক্ষক হিসেবে এ দায় আমার। যে কাউকে কাউকে আমি প্রকৃত শিক্ষার আলো প্রদানে ব্যর্থ হয়েছি। আমার নামে যে মামলাটি করা হয় বলে তোমরা অভিযোগে উল্লেখ করেছো সেটিও এই ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে। কারো কারো পছন্দমতো কমিটি গঠিত হচ্ছিল না বলে আমাকে চাপে রাখতেই মামলা করা হয়। সময় এই সত্য একদিন প্রকাশ করবে, ইনশাল্লাহ।

 

সবশেষে বলি, বাবারা আমাকে ঠিকঠাক আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে, যদি কথা বলা যায় আশা করি তোমাদের ভুল ভাঙবে। তোমরা এসে চাইলে ওয়ান টু ওয়ান আমার সাথে কথা বলো। বাবারা, আমি আবারো বলছি আমি তোমাদের

কাউকে চাকরি দেয়ার ক্ষমতা রাখি না, সবাইকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা বোর্ডে রাখার ক্ষমতাও আমার নাই। এসব ব্যক্তিগত লোভ/লাভ/স্বার্থ রেখে দিয়ে প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক তোমাদের ইস্যুগুলো নিয়ে এসো। আমরা আলোচনা করে প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে সুচারুরূপে পরিচালনা করা যায়, কিভাবে প্রতিষ্ঠানের গর্ব ফুটিয়ে তোলা যায় সেই চেষ্টা করি। আর যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণ হয়, যা আমি নিজ উদ্যোগে, ব্যক্তিস্বার্থে গর্ভানিং বডির তোয়াক্কা না করে, আমার প্রভাব বিস্তার করার জন্য করেছি। কথা দিচ্ছি, আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবো। কিন্তু, অনুগ্রহ করে শিক্ষক হিসেবে যদি কিছুমাত্র তোমাদের দিয়ে থাকি তাহলে সম্মানটুকু রেখো, এ অনুরোধটুকু থাকবে। এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ১৭ টি বছর কাজ করছি। ১৭ বছরের মায়া আমার, জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় এখানে কাটিযে ফেলেছি। তিল তিল করে কলেজ শাখা প্রতিষ্ঠার কাজ, আমাদের সংগ্রাম কোনোকিছুর প্রতিদান চাই না। আমি চাই যেকোনোভাবে, এই প্রতিষ্ঠানের সম্মান অক্ষুন্ন থাকুক। আমি বিশ্বাস করি, এ চাওয়া আমার প্রতিটা সহকর্মীর, এ চাওয়া প্রতিটি বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীর, এ চাওয়া এলাকার প্রতিটি সচেতন অভিভাবকের।

 

ইতি

তোমাদের অধম অধ্যক্ষ

মোঃ আব্দুল মাজেদ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর