রুমী আক্তার
আমি বাবা মার অতি আদরের স্বাধীন মেয়ে,
সবাই ডাকতো তুই তো হয়েছিস শ্যামলা মেয়ে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিলাম নাকি পরিশ্রমী ও মেধাবী,
প্রিয় শিক্ষকরা এখনো করে সেই দাবী।
ছিল না কোন তেমন বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে,
তাই নিয়ে সহপাঠীরা করতো মহা রঙ্গ।
মা বলতে ও পড়াশোনা করলে হবে না,
কাজে লাগাতে হবে এর প্রয়োজনীয়তা।
তা শুনে আমি ভাবতাম মা মনে হয় চাচ্ছে শিক্ষা নিয়ে মানুষকে করি সহযোগিতা।
বাবা ছিলেন প্রবাসী প্রতি মাসে একটি করে চিঠি পেতাম,
মানুষের মত মানুষ হতে হবে এটাই ছিল আমার বাবার বড় প্রাপ্তি।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা শেষে মা চাইলেন দিতে বিয়ে,
বাধ সাধলেন বাবা বিয়ে হবে আমার মেয়ের সম্মানজনক চাকরি নিয়ে।
সৃষ্টিকর্তার অশেষ দয়ায় চাকরি হল সরকারি প্রাইমারি স্কুলে,
বাবা বললেন পাত্র দেখবো এবার মেয়ের জন্য প্রাণ খুলে।
তারপর বিয়ে হল স্বামী আমার বড়ই শিক্ষা অনুরাগী,
বলল স্বামী পড়াশোনা ছাড়তে পারবে না যতই আমি হই না রাগী।
কি আর করা স্বামীর উৎসাহে পড়াশোনা করে মনমতো,
প্রাইমারি স্কুল থেকে চাকরি হয়ে গেলেও কলেজের প্রভাষকে সাধ্যমতো।
এখনো আমি শ্যামলা মেয়ে সকলের মুখে মুখে,
কিন্তু এখন শ্যামলা মেয়ের সাথে যোগ্যতাগুলো তারা গুণে একে একে।
প্রভাষক বাংলা, ডেসটিনি কলেজ।