আশিকুর রহমান সবুজ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র জৈনা বাজার সংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবাধে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কের কোল ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে এই বিশাল ময়লার ভাগাড়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলা জনরোষের ভয়ে কেউ ময়লা না ফেললেও, রাতের আঁধারে একটি অসাধু চক্র ট্রাক ও ট্রলিতে করে এখানে বর্জ্য ডাম্পিং করছে। এতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জৈনা বাজারের উত্তর পাশে মহাসড়কের জায়গা দখল করে বিশাল এলাকাজুড়ে বর্জ্যের স্তূপ জমে আছে। প্লাস্টিক বর্জ্য, পচা গৃহস্থালি ময়লা এবং বাজারের উচ্ছিষ্টের দুর্গন্ধে ওই এলাকা দিয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মহাসড়কের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কের পাশে এভাবে খোলা অবস্থায় ময়লা ফেলায় একদিকে যেমন শ্রীপুরের প্রবেশদ্বারের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে বাজারের কয়েক হাজার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, রাতের অন্ধকারে যখন রাস্তাঘাট কিছুটা জনশূন্য হয়, ঠিক তখনই অজ্ঞাত উৎস থেকে ময়লাবাহী যানবাহনগুলো এসে এখানে বর্জ্য ফেলে দ্রুত সটকে পড়ে। সকালে স্থানীয়রা এসে দেখেন নতুন ময়লার পাহাড়। মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগামী যানবাহনের চালকরা জানান, এই এলাকা অতিক্রম করার সময় বাতাসের সাথে আসা উৎকট দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, যা চালকদের মনোযোগ বিঘ্নিত করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ময়লা পচে নির্গত বিষাক্ত রস মহাসড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ায় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়, যা ছোট যানবাহনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “আমি এই থানায় নতুন যোগদান করেছি, যার ফলে বিষয়টি আগে জানা ছিল না বা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারিনি। তবে মহাসড়কের পাশে এভাবে বর্জ্য ফেলা আইনত দণ্ডনীয়। আমি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব এবং ময়লা অপসারণের ব্যবস্থা করব।”
জৈনা বাজারের ব্যবসায়ী, এলাকাবাসী এবং মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা অবিলম্বে এই বিষাক্ত ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে রাতের আঁধারে যারা মহাসড়কের আইন অমান্য করে ময়লা ফেলছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং হাইওয়ে পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।