আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর)
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রাম এখন ফুলে ফুলে সুশোভিত। বরমী বাজারের ঠিক আগেই অবস্থিত এই গ্রামটি এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় চাষি কবির হোসেনের ৩ বিঘা জমিতে করা বিশাল ফুলের বাগান এখন বিনোদনের নতুন এক ঠিকানা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বাগানের দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ভিড় করছেন এখানে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বরমী বাজারের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই কায়েতপাড়া মোড় থেকে শুরু হয়েছে ফুলের ম ম গন্ধ। কবির হোসেন তার ৩ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন গোলাপ, গ্ল্যাডিওলাস, রজনীগন্ধা এবং উজ্জ্বল সূর্যমুখী। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এই বাগানে। বিশেষ করে বিকেল বেলা দর্শনার্থীদের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বাগানের সৌন্দর্য রক্ষা এবং কৃষকের শ্রমের মূল্য বিবেচনায় দর্শনার্থীদের জন্য ৩০ টাকা প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা জানান, মাত্র ৩০ টাকায় এমন মনোরম পরিবেশে সময় কাটানো এবং ছবি তোলার সুযোগ সত্যিই অভাবনীয়। সংগৃহীত এই অর্থ বাগানের পরিচর্যা ও দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলায় ব্যয় করা হচ্ছে।
চাষি কবির হোসেন জানান, ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় ৩ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করে তিনি বেশ সফল। তার এই বাগান কেবল তাকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করেনি, বরং এলাকাটিকে একটি পর্যটন স্পটে পরিণত করেছে। এখান থেকে উৎপাদিত ফুল প্রতিদিন ভোরে চলে যাচ্ছে রাজধানীর শাহবাগসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, বরমী বাজারের আগে কায়েতপাড়ার এই দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগানগুলো এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিচ্ছে। মাত্র ৩০ টাকা প্রবেশ ফি দিয়ে সাধারণ মানুষ প্রকৃতির সান্নিধ্য পাচ্ছে, যা প্রশংসনীয়। তবে এই পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করতে স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
শ্রীপুর পৌর শহর থেকে বরমী বাজারের দিকে যাওয়ার পথে বাজারের সামান্য আগেই কায়েতপাড়া গ্রামে এই বাগানটির অবস্থান। সিএনজি বা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে খুব সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। প্রকৃতির সান্নিধ্য আর ফুলের সাথে সময় কাটাতে হলে বরমী কায়েতপাড়ার কবির হোসেনের এই বাগান হতে পারে এক চমৎকার গন্তব্য।